০৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার তিতুদহে আবারো দেখা মিললো বিপন্ন প্রাণি গন্ধগোকুল

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহে আবারো দেখা মিললো বিরল ও বিপন্ন প্রাণি গন্ধগোকুল (Small Indian Civet)। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই প্রাণীকে অনেকে ভাম, খাটাশ বা ছোট বাঘডাশ নামেও চেনেন। ভিভেরিকুলা গণের অন্তর্ভুক্ত এ প্রাণিটি আইইউসিএন কর্তৃক লাল তালিকাভুক্ত, অর্থাৎ সংরক্ষণ প্রয়োজন এমন প্রজাতির অন্তর্গত।

আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে তিতুদহ ইউনিয়নের তিতুদহ গ্রামের মাঝের পাড়ায় তিন রাস্তার মোড়ে একটি মৃত গন্ধগোকুলের শাবক দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবিব শিপলু ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি স্থানীয় পল্লী প্রাণি চিকিৎসক হাসানুজ্জামান রিগান-কে সঙ্গে নিয়ে মৃত প্রাণিটিকে পরিদর্শন করেন।

আহসান হাবিব জানান, “সম্ভবত গত রাতে শিকার করতে মা-গন্ধগোকুলের সঙ্গে লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল এ শাবকটি। তবে গ্রামের কয়েকটি কুকুরের আক্রমণে এটি আহত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। আমরা এর শরীরের তিনটি স্থানে গভীর কামড়ের চিহ্ন পেয়েছি। ঘাড়ের অংশও মারাত্মকভাবে ফুলে গেছে।”

প্রাণিবিদ আহসান হাবিব ধারণা করছেন, প্রাণিটি পাশের কেরু অ্যান্ড কোং কারখানার মাঠ এলাকা থেকে খাবারের সন্ধানে গ্রামে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

গন্ধগোকুলকে অনেক সময় মানুষ ভীতিকর ভেবে দূরে ঠেলে দেয়। অথচ এ প্রাণি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাঠের ফসল নষ্টকারী ইঁদুর এরা দমন করে, আবার জলাশয়ের শামুক, কীটপতঙ্গ, রোগাক্রান্ত ও মৃত মাছ খেয়ে পানিকে পরিচ্ছন্ন রাখে।

মৃত গন্ধগোকুলটিকে ঘিরে পরে তিন রাস্তার মোড়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, গ্রামবাসী ও নারীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে প্রাণীটির পরিচিতি, এর উপকারিতা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করা হয়।

সচেতনতামূলক এ আয়োজনে অংশ নেন পল্লী প্রাণি চিকিৎসক হাসানুজ্জামান রিগান, স্বাধীন, শিহাব, সঞ্জু সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা স্থগিত, নতুন প্রশ্নে পরবর্তী পরীক্ষা

চুয়াডাঙ্গার তিতুদহে আবারো দেখা মিললো বিপন্ন প্রাণি গন্ধগোকুল

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহে আবারো দেখা মিললো বিরল ও বিপন্ন প্রাণি গন্ধগোকুল (Small Indian Civet)। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই প্রাণীকে অনেকে ভাম, খাটাশ বা ছোট বাঘডাশ নামেও চেনেন। ভিভেরিকুলা গণের অন্তর্ভুক্ত এ প্রাণিটি আইইউসিএন কর্তৃক লাল তালিকাভুক্ত, অর্থাৎ সংরক্ষণ প্রয়োজন এমন প্রজাতির অন্তর্গত।

আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে তিতুদহ ইউনিয়নের তিতুদহ গ্রামের মাঝের পাড়ায় তিন রাস্তার মোড়ে একটি মৃত গন্ধগোকুলের শাবক দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবিব শিপলু ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি স্থানীয় পল্লী প্রাণি চিকিৎসক হাসানুজ্জামান রিগান-কে সঙ্গে নিয়ে মৃত প্রাণিটিকে পরিদর্শন করেন।

আহসান হাবিব জানান, “সম্ভবত গত রাতে শিকার করতে মা-গন্ধগোকুলের সঙ্গে লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল এ শাবকটি। তবে গ্রামের কয়েকটি কুকুরের আক্রমণে এটি আহত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। আমরা এর শরীরের তিনটি স্থানে গভীর কামড়ের চিহ্ন পেয়েছি। ঘাড়ের অংশও মারাত্মকভাবে ফুলে গেছে।”

প্রাণিবিদ আহসান হাবিব ধারণা করছেন, প্রাণিটি পাশের কেরু অ্যান্ড কোং কারখানার মাঠ এলাকা থেকে খাবারের সন্ধানে গ্রামে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

গন্ধগোকুলকে অনেক সময় মানুষ ভীতিকর ভেবে দূরে ঠেলে দেয়। অথচ এ প্রাণি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাঠের ফসল নষ্টকারী ইঁদুর এরা দমন করে, আবার জলাশয়ের শামুক, কীটপতঙ্গ, রোগাক্রান্ত ও মৃত মাছ খেয়ে পানিকে পরিচ্ছন্ন রাখে।

মৃত গন্ধগোকুলটিকে ঘিরে পরে তিন রাস্তার মোড়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, গ্রামবাসী ও নারীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে প্রাণীটির পরিচিতি, এর উপকারিতা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করা হয়।

সচেতনতামূলক এ আয়োজনে অংশ নেন পল্লী প্রাণি চিকিৎসক হাসানুজ্জামান রিগান, স্বাধীন, শিহাব, সঞ্জু সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।