চুয়াডাঙ্গার মাটি ও মানুষের কাছে দানশীলতা, সততা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত হাজী শামসুজ্জোহা বিশ্বাসের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বাদ আসর তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘হাজী শামসুজ্জোহা জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হাজী শামসুজ্জোহা বিশ্বাস ২০১০ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর গ্রামের মৃত রবজেল আলী বিশ্বাসের সন্তান হলেও জীবনের বেশিরভাগ সময়ই চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ায় কাটান। নিঃস্বার্থ দানশীলতা, সাদামাটা জীবন ও সহজ-সরল আচরণে তিনি মানুষের মাঝে এক অনন্য সম্মান অর্জন করেছিলেন।

শিক্ষা বিস্তারে তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হলো ২০০৩ সালের ৯ মে প্রতিষ্ঠিত ‘পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসা’, যা পরবর্তীতে তাঁর নামেই ‘হাজী শামসুজ্জোহা জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিবেদিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে মরহুমের স্মৃতি উঠে আসে তাঁর পুত্র, সাবেক সাংবাদিক ও প্রবাসী ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান আরিফের আবেগী বক্তব্যে। তিনি বলেন, আমার আব্বা আজ থেকে ১৫ বছর আগে এই দিনে মারা গেছেন। আপনারা সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত দান করেন।

তিনি তার বড় ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, আব্বা মারা যাওয়ার পর থেকে বড় ভাই আমাদের পরিবারের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি পিতার স্বপ্নকে ধরে রেখেছেন। চুয়াডাঙ্গার তিন তারকা মানের সাহিদ প্যালেস অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার সম্পূর্ণ মাদ্রাসার নামে উৎসর্গ করেছেন, যার আয় পুরোপুরি মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হয়।
আরিফুজ্জামান আরিফ তাঁর ছোট ভাই মো: শরীফুজ্জামান শরীফ (চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রকাশক-সম্পাদক), দুই বোন মুক্তা ও রিক্তা এবং মাদ্রাসার দেখাশোনা করা বোন জামাইয়ের জন্যও দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, আমার আব্বা–আম্মা যদি কখনো আপনাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, দয়া করে তাঁদের মাফ করবেন এবং তাঁদের জন্য মন থেকে দোয়া করবেন।
মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মুহতামিম আল্লামা মুফতি আ. কাদের।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, দৈনিক খাসখবরের প্রধান সম্পাদক রাজিব হাসান কচি, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান শামীম, সুমন পারভেজসহ এলাকাবাসী, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
হাজী শামসুজ্জোহা বিশ্বাস চলে গিয়েও তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার আলোয় প্রতিদিন নতুন প্রজন্ম আলোকিত হচ্ছে এটাই যেন তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 


























