১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে স্বামীর, তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে জীবননগরের হাজেরার

  • জীবননগর অফিস
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮০০ Views

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের ধান্যখোলা গ্রামের গৃহবধূ মোছাম্মদ হাজেরা খাতুন স্বামীর বিরুদ্ধে দ্বৈত বিয়ে, প্রতারণা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার অভিযোগ এনে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে তিন সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার।

ভুক্তভোগী হাজেরা খাতুন জানান, প্রায় ২১ বছর আগে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো. হাতেম আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান হাতেম আলী। প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক সহযোগিতা থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে যায়। গত এক বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরিবারের খোঁজখবরও নেননি।

গত ৮ মার্চ হঠাৎ দেশে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে কিছুদিন অবস্থান করলেও আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় বলে দাবি হাজেরার। দুই দিনের মাথায় কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি আবার চলে যান। এরপর ‘সাদিয়া’ নামের এক নারী হাজেরা খাতুনের মোবাইলে যোগাযোগ করে দাবি করেন, তিন বছর আগে তার সঙ্গে হাতেম আলীর বিয়ে হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি তার সঙ্গেই বসবাস করছেন।

এ ঘটনায় সন্দিহান হয়ে হাজেরা খাতুন স্বামীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পরে পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে না পেয়ে হাতেম আলী জীবননগর থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় নেতা মোখলেসুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সালিশে দাম্পত্য জীবন আগের মতো চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকের পরপরই হাতেম আলী আবার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে চলে যান। হাজেরা খাতুনের দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সহায়তায় তাকে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বর্তমানে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দ্বিতীয় ছেলে মো. মুন্না জানায়, বাবার পাঠানো অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় ছেলে হাসিবুল একটি ওয়াইফাই দোকানে কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছে।

হাজেরা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, ‘সাদিয়া’ নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও ইমোর মাধ্যমে তার স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে হলে ৬ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়, অন্যথায় আইনি জটিলতায় ফেলার ভয় দেখানো হয়।

জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, “আমি আমার স্বামীর নির্যাতনের বিচার চাই। আমার মতো যেন আর কোনো নারীর জীবনে এমন ঘটনা না ঘটে।”

ভুক্তভোগী পরিবারটি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গরুবোঝাই ভটভটি উল্টে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত, আহত অন্তত ৮

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে স্বামীর, তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে জীবননগরের হাজেরার

প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের ধান্যখোলা গ্রামের গৃহবধূ মোছাম্মদ হাজেরা খাতুন স্বামীর বিরুদ্ধে দ্বৈত বিয়ে, প্রতারণা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার অভিযোগ এনে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে তিন সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার।

ভুক্তভোগী হাজেরা খাতুন জানান, প্রায় ২১ বছর আগে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো. হাতেম আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান হাতেম আলী। প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক সহযোগিতা থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে যায়। গত এক বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরিবারের খোঁজখবরও নেননি।

গত ৮ মার্চ হঠাৎ দেশে ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে কিছুদিন অবস্থান করলেও আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় বলে দাবি হাজেরার। দুই দিনের মাথায় কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি আবার চলে যান। এরপর ‘সাদিয়া’ নামের এক নারী হাজেরা খাতুনের মোবাইলে যোগাযোগ করে দাবি করেন, তিন বছর আগে তার সঙ্গে হাতেম আলীর বিয়ে হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি তার সঙ্গেই বসবাস করছেন।

এ ঘটনায় সন্দিহান হয়ে হাজেরা খাতুন স্বামীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পরে পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে না পেয়ে হাতেম আলী জীবননগর থানায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে থানায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় নেতা মোখলেসুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সালিশে দাম্পত্য জীবন আগের মতো চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকের পরপরই হাতেম আলী আবার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে চলে যান। হাজেরা খাতুনের দাবি, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সহায়তায় তাকে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বর্তমানে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দ্বিতীয় ছেলে মো. মুন্না জানায়, বাবার পাঠানো অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় ছেলে হাসিবুল একটি ওয়াইফাই দোকানে কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছে।

হাজেরা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, ‘সাদিয়া’ নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও ইমোর মাধ্যমে তার স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে হলে ৬ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়, অন্যথায় আইনি জটিলতায় ফেলার ভয় দেখানো হয়।

জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, “আমি আমার স্বামীর নির্যাতনের বিচার চাই। আমার মতো যেন আর কোনো নারীর জীবনে এমন ঘটনা না ঘটে।”

ভুক্তভোগী পরিবারটি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

এএইচ