চুয়াডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিম ইসলাম তুর্য (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে শহরের মুক্তিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত তামিম ইসলাম তুর্য চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালযয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর। পড়াশোনার সুবিধার্থে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার টিঅ্যাণ্ডটিপাড়ায় ভাড়াবাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে আসছে।

আহত তামিম অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দশম শ্রেণির পরিক্ষা শুরু আগে বসে ছিলাম। এ সময় আমি জানায়, পরিক্ষার জন্য পড়া ঠিকমতো হয়নি, এ জন্য মন খারাপ আমার। এরপরই দুই এক কথায় আমাকে আমাদের ক্লাসেরই হামজা নামের একজন আমার মা তুলে গালিগালাজ করে। আমি প্রতিবাদ করি এবং পিঠে একটি থাবা দিই৷ এ নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

তামিম আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিক্ষার পর কেদারগঞ্জের শাহজাহান খানের ছেলে মাহির নেতৃত্বে নিশান, আমান, রাজু,রাব্বি, সাজু, খালিদ, আলভিসহ কয়েকজন আমার উপর চড়াও হয়। আমাকে শহরের মুক্তিপাড়ার একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র চাপাতির উল্টো দিক দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করতে থাকে। এতে আমার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আমার সহপাঠিরা আমাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

উদ্ধারকারি এক সহপাঠী জানায়, কোন কারণ ছাড়ায় তামিমকে গালিগালাজ করে হামজা। গালির কারণ জানতে চাইলে উল্টো উত্তেজিত হয়ে হামজা বলে, গালি দিয়েছি তাতে কি হয়েছে? আমাকে মারবি নাকি? এমন কথা বলায় পাশে কয়েকজন ৫-৭ জন ছেলেরা ছিল তারা মিলে হামজাকে মারধর করে। পরিক্ষা শেষে মাহির নেতৃত্বে আমার বন্ধু তামিমকে স্কুলের সামনে থেকে মুক্তিপাড়ার একটি খেলার মাঠে তুলে নিয়ে যায়। আমরা পিছন পিছন গিয়ে দেখি আমার বন্ধুকে চাপাতির উলটো দিক দিয়ে মারছে তারা। এতে আমার বন্ধুর মাথা ফেটে যায়। মাহি দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। আর মেরেছে রাজু, আনান, আলভি, সাজু, রাব্বি
পরে আমরা রক্তাক্ত অবস্থায় তামিককে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জেরিন জেসি বলেন, তামিক মাথায় আঘাত হয়েছে। রক্তক্ষরণ হচ্ছিল যখন নিয়ে আসে জরুরি বিভাগে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। ভোতা টাইপের কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। সে শঙ্কামুক্ত।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। দুই ছাত্রের মধ্যে প্রথমে গণ্ডগোল বাধছিল। এটার জের ধরেই এ ঘটনার সুত্রপাত। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র মামলা করবে বলে জানিয়েছেন।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















