০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় মামলা, স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক মূল অভিযুক্ত শুভ

চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্ত তার স্বামী সামসউর রহমান শুভ এখনো পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে লাঞ্ছনার শিকার ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্ছনার ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্বামী সামসউর রহমান শুভ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম সুবর্ণা অফিসকক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক মহলে নিন্দার ঝড় উঠে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের এফেম্বলি চলাকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলার কারণে তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় দুই শিশুর গালে একটি চড় দেন তিনি। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু জান্নাতের বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে চড় মারেন।

লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বলেন, আমি একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের যেমন আদর করি, তেমনি প্রয়োজনে একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। কিন্তু এজন্য একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, এটা কখনো ভাবিনি। এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছি। আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

জীবননগরে হাজীদের সম্মানে হাজী সম্মেলন ও দোয়া মাহফিল, অংশ নিলেন প্রায় ২৫০ হাজী

চুয়াডাঙ্গায় প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় মামলা, স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক মূল অভিযুক্ত শুভ

প্রকাশের সময় : ০২:০১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্ত তার স্বামী সামসউর রহমান শুভ এখনো পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে লাঞ্ছনার শিকার ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্ছনার ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্বামী সামসউর রহমান শুভ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম সুবর্ণা অফিসকক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক মহলে নিন্দার ঝড় উঠে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের এফেম্বলি চলাকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলার কারণে তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় দুই শিশুর গালে একটি চড় দেন তিনি। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু জান্নাতের বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে চড় মারেন।

লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বলেন, আমি একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের যেমন আদর করি, তেমনি প্রয়োজনে একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। কিন্তু এজন্য একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, এটা কখনো ভাবিনি। এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছি। আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।

এএইচ