১১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় অভিযানের খবরে পালালেন কাজি, দুজনকে আটকের পর মুচলেকায় মুক্তি, বাতিল হতে পারে লাইসেন্স

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এম এম আর ও কাজি অফিসে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন।

অভিযানের সময় রেজিস্ট্রার সামসুল হক পালিয়ে গেলেও সুফিয়ান ও আব্দুস সাত্তার নামে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এম এম আর ও কাজি অফিসটি তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেজিস্ট্রার সামসুল হকের লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ওই এম এম আর ও কাজি অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোপনে তার অফিস পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে রেজিস্ট্রার সামসুল হক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে অফিসে থাকা সুফিয়ান ও আব্দুস সাত্তার নামে দুইজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অফিস থেকে ভলিয়ম বই জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এমএমআর ও কাজি অফিসটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এছাড়া রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগেও বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতের অভিযানের পর কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

তিন সন্তান রেখে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী

চুয়াডাঙ্গায় অভিযানের খবরে পালালেন কাজি, দুজনকে আটকের পর মুচলেকায় মুক্তি, বাতিল হতে পারে লাইসেন্স

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এম এম আর ও কাজি অফিসে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন।

অভিযানের সময় রেজিস্ট্রার সামসুল হক পালিয়ে গেলেও সুফিয়ান ও আব্দুস সাত্তার নামে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এম এম আর ও কাজি অফিসটি তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রেজিস্ট্রার সামসুল হকের লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ওই এম এম আর ও কাজি অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে গোপনে তার অফিস পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেয়ে রেজিস্ট্রার সামসুল হক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে অফিসে থাকা সুফিয়ান ও আব্দুস সাত্তার নামে দুইজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অফিস থেকে ভলিয়ম বই জব্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এমএমআর ও কাজি অফিসটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এছাড়া রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগেও বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রেজিস্ট্রার সামসুল হকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতের অভিযানের পর কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।