চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় কবিরাজির নামে দীর্ঘদিন ধরে অপচিকিৎসা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক ভুয়া কবিরাজকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার আস্তানা থেকে অপচিকিৎসায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ কবিরাজি বই, কথিত ওষুধ, ভেষজ উপকরণ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাহাটি জোয়ার্দারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. রিপন হোসেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিপন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজির আড়ালে বিভিন্ন ধরনের তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক এবং কথিত চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের আলোকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
এ সময় তার আস্তানা থেকে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উপকরণ, কথিত ওষুধ, কবিরাজি বই এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সামগ্রী জব্দ করা হয়।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আউলিয়ার রহমান এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম।
অভিযান শেষে অভিযুক্ত রিপন হোসেনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক, প্রতারণামূলক ও অপচিকিৎসামূলক কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পরে তিনি আর কখনো এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতারণার কোনো সুযোগ নেই। অপচিকিৎসা এবং ভুয়া চিকিৎসার নামে কেউ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















