চুয়াডাঙ্গায় অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর চতুর্থ ও সমাপনী দিবসে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে স্মরণ করে আলোচনা ও নাট্যাভিনয়ের মিশ্র আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনের মূল থিম ছিল “মৃত্যুহীন ধরণীর জ্বলন্ত প্রলাপ”। অনুষ্ঠানটি অরিন্দমের সহসভাপতি বজলুর রহমান জোয়ার্দারের রচনায় গঠিত ছিল।
সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইয়াকুব আলী জোয়ার্দার। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নওরোজ মোহাম্মাদ সাঈদ।
বক্তব্যে তিনি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা ও সামাজিক চিন্তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, সুকান্তের কাব্য মানবতার যন্ত্রণাকে আকুতিগ্রস্তভাবে তুলে ধরে তাই তার ভাবনার ধারাকে থামাতে নয়, বরং ধরে রাখতে সমাজকে সচেষ্ট হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সুকান্তের কলম ছিল নিঃসন্দেহে নির্যাতিত ও নিহত মানুষের পক্ষে এক চিরন্তন কণ্ঠস্ব্বর।
আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা সংসদের সভাপতি হাবিবি জহির রায়হান। তিনি সুকান্তের বিদ্রোহী কণ্ঠ ও সামাজিক দায়বোধ নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর। পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন অরিন্দমের সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মানিক।

আলোচনা পর্বের পরে সাংস্কৃতিক পর্বে উদীচি শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য উপস্থাপন করা হয়। সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত নাটক ‘অভিযান’, যেটি উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী মাগুরা জেলা সংসদের দলবিশেষের স্বতন্ত্র অনুশীলনে উপস্থাপিত হয়। বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় নাটকটি আধাঘণ্টা দৃশ্যে পরিবেশিত হয় এবং উপস্থিত সংবাদকর্মী ও দর্শকরা তা গ্রহণ করেন।
অনেক দর্শক এই নাটকের শৈল্পিক দিক প্রশংসা করলেন, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি দ্রুতগতিতে ঘটায় দর্শকসন্তুষ্টি আংশিকভাবে ব্যাহত হয়, দর্শকদের কথায় নাটকের সংলাপভিত্তিক ছন্দ ও কয়েকটি তরুণ শিল্পীর অভিনয় ভাল লেগেছে। তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করলেন, বিগত দিনগুলোর অন্য মঞ্চনাট্যগুলোর মধ্যে ‘রথের রশি’ ও ‘নীলকুঠি’ যথাক্রমে দারুণ ছাপ রেখেছে।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দীন, জীবন সদস্য কাজল মাহমুদ, তৌহিদ মিটুল, হাসান বিন মনসুর মাসুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক, নাট্য ব্যক্তিত্ব সাজ্জাদ হোসেন ও আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অরিন্দমের চারদিনব্যাপী আয়োজনটি জনসাধারণের কাছে সংস্কৃতি-চেতনার একটি জীবন্ত বার্তা রেখে শেষ হলো। এলাকার সাংস্কৃতিক পরিসরকে প্রাণবন্ত রাখার লক্ষ্যে এই ধরনের বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়মিতভাবে রচিত হলে জেলার সাংস্কৃতিক জীবনে তা ব্যতিক্রমী সাফল্য ও স্থায়ী প্রভাব ফেলবে, এটাই ছিল উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের সমান্তরাল প্রত্যাশা।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















