০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়ন বঞ্চনার ১৩ দফা দাবি তুলে ডিসির কাছে স্মারকলিপি দিলো চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটি

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গা জেলার উন্নয়ন বঞ্চনা ও নাগরিক দুর্ভোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটি। বুধবার (তারিখ) দুপুর ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, মো. তৌহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ শাহাজাহান আলী বিশ্বাস, আহাদ আলী মোল্লা, মো. সাহাবুদ্দীন, মো. লাবলুর রহমান, মোহা. শাফায়েতুল ইসলাম, আছির উদ্দীন, অ্যাডভোকেট কাইজার জোয়ার্দ্দার, শেখ সেলিমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা জেলা এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জেলার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি প্রত্যাশিত নয় এবং নাগরিকরা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চুয়াডাঙ্গা শহরের বহুল আলোচিত ওভারপাস নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে দালালমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহক হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করা এবং মাথাভাঙ্গা নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়া শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা, দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থল ও রেলবন্দর চালু করা, পান চাষিদের জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দখলে থাকা রাস্তা উন্মুক্ত করা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জেলা পরিষদের ডাকবাংলোকে স্বাধীনতা ভবন ঘোষণা ও জাদুঘরে রূপান্তর, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, ঐতিহ্যবাহী গণগ্রন্থাগার ও টাউন হল অবৈধ দখলমুক্ত করা, বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং জীবননগরের দত্তনগরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, মানবিক ও বাসযোগ্য চুয়াডাঙ্গা গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করা হয়েছে।

এদিকে, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ সেলিম জানান, উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ২৬ এপ্রিল রোববার সকাল ৯টায় শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

জীবননগরের পিংকি হ ত্যা মামলার আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

উন্নয়ন বঞ্চনার ১৩ দফা দাবি তুলে ডিসির কাছে স্মারকলিপি দিলো চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটি

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলার উন্নয়ন বঞ্চনা ও নাগরিক দুর্ভোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটি। বুধবার (তারিখ) দুপুর ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, মো. তৌহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ শাহাজাহান আলী বিশ্বাস, আহাদ আলী মোল্লা, মো. সাহাবুদ্দীন, মো. লাবলুর রহমান, মোহা. শাফায়েতুল ইসলাম, আছির উদ্দীন, অ্যাডভোকেট কাইজার জোয়ার্দ্দার, শেখ সেলিমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা জেলা এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জেলার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি প্রত্যাশিত নয় এবং নাগরিকরা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চুয়াডাঙ্গা শহরের বহুল আলোচিত ওভারপাস নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে দালালমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহক হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করা এবং মাথাভাঙ্গা নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়া শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা, দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থল ও রেলবন্দর চালু করা, পান চাষিদের জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দখলে থাকা রাস্তা উন্মুক্ত করা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জেলা পরিষদের ডাকবাংলোকে স্বাধীনতা ভবন ঘোষণা ও জাদুঘরে রূপান্তর, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, ঐতিহ্যবাহী গণগ্রন্থাগার ও টাউন হল অবৈধ দখলমুক্ত করা, বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং জীবননগরের দত্তনগরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, মানবিক ও বাসযোগ্য চুয়াডাঙ্গা গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করা হয়েছে।

এদিকে, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ সেলিম জানান, উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ২৬ এপ্রিল রোববার সকাল ৯টায় শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।