০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপকর্ম ঢাকতে সাদা কাগজে শিক্ষার্থীদের সাক্ষর নিলেন চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর ফরিদা

নিজের সীমাহীন অপকর্ম ঢাকতে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিন।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিন্ন খাতে নিতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ভাইভা পরীক্ষায় নম্বর কাটার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউটের আবাসিকে গিয়ে ওইসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে ঢালাওভাবে স্বাক্ষর গ্রহণ করেন ইন্সট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিন।

বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে, গত দুদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার নার্সিং ইনস্টিটিউটের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ হচ্ছে স্থানীয় সংবাদপত্রে। ধারাবাহিক এ প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি বিভিন্ন খাতে আর্থিক কেলেঙ্কারি, ইন্সট্রাক্টরের স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ইন্সট্রাক্টরদের স্বামীদের অনাধিকার চর্চা ও গত দুই বছর ধরে কমিটির সভার রেজ্যুলেশন প্রস্তুত না করার বিষয়গুলো উঠে আসে।

সংবাদ প্রকাশের জেরে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন ইন্সট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিন। আঁটতে থাকেন নানা ফন্দি-ফিকির। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা কেউ কেউ সই দিতে না চাইলে ভাইভা পরীক্ষায় নম্বর কাটারও ভয় দেখান অভিযুক্ত ইন্সট্রাক্টর।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ধারাবাহিক প্রকাশিত সংবাদের দায় এড়াতে এমন ছলচাতুরির আশ্রয় নেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেওয়া পত্র কাজে লাগাবেন নিজের অপকর্ম ঢাকতে। নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কিংবা শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করানোরও চেষ্টা চালাচ্ছেন।

স্বাক্ষর গ্রহণের বিষয়টি জানার পরপরই গতকাল সন্ধ্যায় ইন্সট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বাসায়। আমি অফিস টাইমের বাইরে কারো কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না।’

অভিযোগ উঠেছে, চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অন্তত ২ লাখ টাকা আদায় করেছেন। ওইসব শিক্ষার্থীদের মেডিকেল টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টারে। সেখানেও কমিশন বাণিজ্য করেছেন তিনি। রেজিস্ট্রেশন কিংবা অ্যাডমিট কার্ডের জন্য টাকা আদায় করেন নিয়মিত।

এছাড়া নার্সিং ইনস্টিটিটিউটে যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজে স্বজনপ্রীতি, মিলের বাজারের জন্য স্বেচ্ছাচারিতা, অফিস নিয়ন্ত্রণে ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন ও ইন্সট্রাক্টর আনোয়ারা খাতুনের স্বামীদের অনাধিকার চর্চা ও অফিস স্টাফদের হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর, সাধারণ সম্পাদক জিসান আহমেদ

অপকর্ম ঢাকতে সাদা কাগজে শিক্ষার্থীদের সাক্ষর নিলেন চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর ফরিদা

প্রকাশের সময় : ১০:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজের সীমাহীন অপকর্ম ঢাকতে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিন।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিন্ন খাতে নিতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ভাইভা পরীক্ষায় নম্বর কাটার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউটের আবাসিকে গিয়ে ওইসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে ঢালাওভাবে স্বাক্ষর গ্রহণ করেন ইন্সট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিন।

বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে, গত দুদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার নার্সিং ইনস্টিটিউটের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ হচ্ছে স্থানীয় সংবাদপত্রে। ধারাবাহিক এ প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি বিভিন্ন খাতে আর্থিক কেলেঙ্কারি, ইন্সট্রাক্টরের স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ইন্সট্রাক্টরদের স্বামীদের অনাধিকার চর্চা ও গত দুই বছর ধরে কমিটির সভার রেজ্যুলেশন প্রস্তুত না করার বিষয়গুলো উঠে আসে।

সংবাদ প্রকাশের জেরে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন ইন্সট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিন। আঁটতে থাকেন নানা ফন্দি-ফিকির। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা কেউ কেউ সই দিতে না চাইলে ভাইভা পরীক্ষায় নম্বর কাটারও ভয় দেখান অভিযুক্ত ইন্সট্রাক্টর।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ধারাবাহিক প্রকাশিত সংবাদের দায় এড়াতে এমন ছলচাতুরির আশ্রয় নেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেওয়া পত্র কাজে লাগাবেন নিজের অপকর্ম ঢাকতে। নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কিংবা শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করানোরও চেষ্টা চালাচ্ছেন।

স্বাক্ষর গ্রহণের বিষয়টি জানার পরপরই গতকাল সন্ধ্যায় ইন্সট্রাক্টর ফরিদা ইয়াছমিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বাসায়। আমি অফিস টাইমের বাইরে কারো কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না।’

অভিযোগ উঠেছে, চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তিতে সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অন্তত ২ লাখ টাকা আদায় করেছেন। ওইসব শিক্ষার্থীদের মেডিকেল টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টারে। সেখানেও কমিশন বাণিজ্য করেছেন তিনি। রেজিস্ট্রেশন কিংবা অ্যাডমিট কার্ডের জন্য টাকা আদায় করেন নিয়মিত।

এছাড়া নার্সিং ইনস্টিটিটিউটে যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজে স্বজনপ্রীতি, মিলের বাজারের জন্য স্বেচ্ছাচারিতা, অফিস নিয়ন্ত্রণে ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন ও ইন্সট্রাক্টর আনোয়ারা খাতুনের স্বামীদের অনাধিকার চর্চা ও অফিস স্টাফদের হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।