০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই ‘ক্রিম আপা’ গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সাভারের আশুলিয়ার শারমিন শিলা ওরফে ‘ক্রিম আপা’র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ পেতে সন্তানকে ক্যামেরার সামনে এনে নিষ্ঠুর আচরণ করার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার সাভার থেকে আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার শারমিন শিলা আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি পেশায় একজন বিউটিশিয়ান। তার বিরুদ্ধে সাভার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাজী ইসরাত জামান গতকাল বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাভারের আশুলিয়ায় বসবাসকারী শারমিন শিলা পেশায় একজন বিউটিশিয়ান। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধরনের ক্রিম তৈরি করে বিক্রি করতেন। শারমিন শিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিম আপা নামে পরিচিত। তিনি তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেসব ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলে-মেয়ের সঙ্গে মাতৃসুলভ আচরণ না করে মানসিকভাবে নির্যাতন ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কাজ করতে বাধ্য করতেন শারমিন শিলা।

মামলার বাদী সাভার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাজী ইসরাত জামান গণমাধ্যমেকে বলেন, শারমিন শিলা তার বাচ্চাদের নিয়ে যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ বাড়াতে নিষ্ঠুর আচরণ করেন। এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শিশু আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

আশুলিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল রাতে শারমিন শিলার বিরুদ্ধে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে শারমিন শিলা আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ আজ রাত ৮টার দিকে সাভার থেকে শারমিন শিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখনো আশুলিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন শারমিন শিলা, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শারমিন শিলা তার মেয়ে শিশুকে জোর করে এক হাত দিয়ে মুখে চাপ দিয়ে ধরে হা করিয়ে জোর করে কেক জাতীয় কিছু খেতে বাধ্য করছেন। এ ছাড়াও তিনি তার ছেলে-মেয়েদের ক্যামেরার সামনে এনে জোর করে চুলকাটা, রং করা, কানে ভারী দুল পরানো, শিশুদের মুখে কুলকুচি করা, অপমানজনক গালিগালাজ করা, থাপ্পড় ও শারীরিক কষ্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত ভিডিও তৈরি করেছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা স্থগিত, নতুন প্রশ্নে পরবর্তী পরীক্ষা

সেই ‘ক্রিম আপা’ গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত সাভারের আশুলিয়ার শারমিন শিলা ওরফে ‘ক্রিম আপা’র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ পেতে সন্তানকে ক্যামেরার সামনে এনে নিষ্ঠুর আচরণ করার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার সাভার থেকে আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার শারমিন শিলা আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি পেশায় একজন বিউটিশিয়ান। তার বিরুদ্ধে সাভার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাজী ইসরাত জামান গতকাল বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাভারের আশুলিয়ায় বসবাসকারী শারমিন শিলা পেশায় একজন বিউটিশিয়ান। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধরনের ক্রিম তৈরি করে বিক্রি করতেন। শারমিন শিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিম আপা নামে পরিচিত। তিনি তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেসব ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলে-মেয়ের সঙ্গে মাতৃসুলভ আচরণ না করে মানসিকভাবে নির্যাতন ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কাজ করতে বাধ্য করতেন শারমিন শিলা।

মামলার বাদী সাভার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাজী ইসরাত জামান গণমাধ্যমেকে বলেন, শারমিন শিলা তার বাচ্চাদের নিয়ে যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ বাড়াতে নিষ্ঠুর আচরণ করেন। এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শিশু আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

আশুলিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল রাতে শারমিন শিলার বিরুদ্ধে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে শারমিন শিলা আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ আজ রাত ৮টার দিকে সাভার থেকে শারমিন শিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখনো আশুলিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন শারমিন শিলা, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শারমিন শিলা তার মেয়ে শিশুকে জোর করে এক হাত দিয়ে মুখে চাপ দিয়ে ধরে হা করিয়ে জোর করে কেক জাতীয় কিছু খেতে বাধ্য করছেন। এ ছাড়াও তিনি তার ছেলে-মেয়েদের ক্যামেরার সামনে এনে জোর করে চুলকাটা, রং করা, কানে ভারী দুল পরানো, শিশুদের মুখে কুলকুচি করা, অপমানজনক গালিগালাজ করা, থাপ্পড় ও শারীরিক কষ্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত ভিডিও তৈরি করেছেন।