জুলাই শহীদদের স্মরণে চুয়াডাঙ্গা জেলায় শুরু হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ৷ তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ, চাপমুক্ত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রতিটি স্কুল-কলেজে গঠিত হবে ‘মেন্টাল হেলথ ক্লাব’।
জেলার শিক্ষার্থীরা যাতে মানসিক চাপ, হতাশা বা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই যুব দক্ষতা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও আইডেন্টিটি ইনক্লুশনের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই জেলার ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষকদের নিয়ে দুইদিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব শিক্ষক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবেন এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ‘Mental Health Club’ গঠন করবেন। যেখানে শিক্ষার্থীরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতামূলক সেমিনার, গ্রুপ আলোচনা ও সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হবে নিরাপদ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ।
আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রশিক্ষণটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দীন মনজুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল্লাহ, সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সুপারভাইজার সোহেল আহমেদ ও যুব দক্ষতা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আল রোমাজ রাজন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সমন্বয় করেন মো: তাছফিন আহম্মেদ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য বলছে, প্রতিবছর প্রায় ৮ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে, আর ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এটি। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬ হাজারের বেশি আত্মহত্যা ঘটে, যার বড় অংশ তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগকে অনুপ্রেরণা হিসেবে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার এই উদ্যোগকে সময়ের দাবি হিসেবেই দেখছেন সবাই।
প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আজকের তরুণরাই আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তারা যেন হতাশায় ডুবে না যায়, জীবনের প্রতি আস্থা হারিয়ে না ফেলে, সেদিকেই আমাদের সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। ‘Mental Health Club’ তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় শক্তি যোগাবে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের শেখায়, জীবনকে লালন করতে হয়, হাল ছেড়ে দিতে নয়।”

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এ ক্লাবগুলো শুধু আত্মহত্যা প্রতিরোধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা, সহানুভূতিশীল দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করার সুযোগও তৈরি করবে। শিক্ষার্থীরা এখানে নিজেদের মনের কথা ভাগ করে নিতে পারবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক জীবনবোধ গঠনে সহায়ক হবে।
চুয়াডাঙ্গার এই উদ্যোগ এখন জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু স্থানীয় উদ্যোগ নয়, বরং দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হতে পারে।
এএইচ
অর্ণব আহমেদ আশিক 



















