০৩:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন, চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, প্রেম ও দ্রোহের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’। কবির ‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ উক্তিকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নাম। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অসামান্য অবদান বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মননজগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ সরকার চলতি বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করায় সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় কবিকে কোনো একটি দিন কিংবা একটি বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাঁর জীবন, আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তা ব্যক্তিজীবন এবং দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড ও চিন্তাচেতনার মধ্যেও নজরুলের আদর্শকে ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি ও ইসলামের কবি। মাত্র কয়েক মিনিটে তাঁর বিশাল কর্মময় জীবন ও সাহিত্যকীর্তি তুলে ধরা সম্ভব নয়। নজরুলের সৃষ্টি ও আদর্শ সমগ্র বাংলাজুড়ে বিস্তৃত।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। দেশ ও মানুষের জন্য তিনি অসংখ্য গান, কবিতা ও উপন্যাস রচনা করেছেন। বাঙালি জাতি কখনো তাঁর অবদান ভুলবে না। দ্রোহের কবি নজরুলের কবিতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বহু বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এ বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে কবিকে নিয়ে নানা আয়োজন হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায়ও সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলাবাসী গর্বিত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মুন্সী আবু সাঈফ, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা এবং জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন জাসাস ও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, আদর্শ ও সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও মানবতার বার্তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ফু র্তি : ধা ও য়া খে য়ে পরনের লুঙ্গি-স্যান্ডেল ফেলে পালালেন সোহেল

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন, চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

প্রকাশের সময় : ০১:২১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, প্রেম ও দ্রোহের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’। কবির ‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ উক্তিকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নাম। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অসামান্য অবদান বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মননজগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ সরকার চলতি বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করায় সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় কবিকে কোনো একটি দিন কিংবা একটি বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাঁর জীবন, আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তা ব্যক্তিজীবন এবং দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড ও চিন্তাচেতনার মধ্যেও নজরুলের আদর্শকে ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি ও ইসলামের কবি। মাত্র কয়েক মিনিটে তাঁর বিশাল কর্মময় জীবন ও সাহিত্যকীর্তি তুলে ধরা সম্ভব নয়। নজরুলের সৃষ্টি ও আদর্শ সমগ্র বাংলাজুড়ে বিস্তৃত।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। দেশ ও মানুষের জন্য তিনি অসংখ্য গান, কবিতা ও উপন্যাস রচনা করেছেন। বাঙালি জাতি কখনো তাঁর অবদান ভুলবে না। দ্রোহের কবি নজরুলের কবিতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বহু বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এ বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে কবিকে নিয়ে নানা আয়োজন হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায়ও সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলাবাসী গর্বিত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মুন্সী আবু সাঈফ, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা এবং জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন জাসাস ও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, আদর্শ ও সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও মানবতার বার্তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।