০৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার আনসারবাড়ীয়া স্টেশন চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ, খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালুসহ তিন দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের কর্মসূচির কারণে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে রয়েছে ট্রেন, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে খুলনা থেকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌছালে সেটি থামিয়ে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এ অবরোধ বেলা ১টা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান।

আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—স্টেশনটিতে অন্তত দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।

অবরোধের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল, জীবননগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে অবরোধের প্রভাব পড়েছে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনে। এসব স্টেশনে গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আটকে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ সাদিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, সকাল থেকেই ঈশ্বরদী যাওয়ার জন্য ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। পরে জানতে পারেন, আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে ট্রেন আটকে রেখে আন্দোলন চলছে। এতে তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একই স্টেশনে পোড়াদহ যাওয়ার জন্য আসা এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসার কাজে পোড়াদহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে এসেছিলেন। কিন্তু ট্রেন অবরোধ করে স্টেশন চালুর দাবিতে আন্দোলন চলার কথা জানতে পেরে বিপাকে পড়েছেন। কখন ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

অবরোধ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান এবং আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদ।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আনসারবাড়ীয়া স্টেশন চালুর দাবিতে স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে রূপসা এক্সপ্রেস আটকে রেখেছেন। এতে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে বিলম্বের পাশাপাশি রেলওয়ের সামগ্রিক সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

প্রতিশ্রুতির পর আনসারবাড়ীয়ায় রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার, তিন ঘন্টা পর স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল

চুয়াডাঙ্গার আনসারবাড়ীয়া স্টেশন চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ, খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ

প্রকাশের সময় : ০১:৩২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালুসহ তিন দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের কর্মসূচির কারণে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে রয়েছে ট্রেন, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে খুলনা থেকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌছালে সেটি থামিয়ে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এ অবরোধ বেলা ১টা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান।

আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—স্টেশনটিতে অন্তত দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।

অবরোধের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল, জীবননগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে অবরোধের প্রভাব পড়েছে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনে। এসব স্টেশনে গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আটকে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ সাদিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, সকাল থেকেই ঈশ্বরদী যাওয়ার জন্য ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। পরে জানতে পারেন, আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে ট্রেন আটকে রেখে আন্দোলন চলছে। এতে তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একই স্টেশনে পোড়াদহ যাওয়ার জন্য আসা এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসার কাজে পোড়াদহ যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে এসেছিলেন। কিন্তু ট্রেন অবরোধ করে স্টেশন চালুর দাবিতে আন্দোলন চলার কথা জানতে পেরে বিপাকে পড়েছেন। কখন ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

অবরোধ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান এবং আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদ।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আনসারবাড়ীয়া স্টেশন চালুর দাবিতে স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে রূপসা এক্সপ্রেস আটকে রেখেছেন। এতে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে বিলম্বের পাশাপাশি রেলওয়ের সামগ্রিক সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।