১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর ভাতার ২৫০০ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকচক্র

সরকারি ভাতার অর্থ পাওয়ার আশায় মোবাইল ফোনে আসা একটি কলের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেই বিশ্বাসই কাল হয়ে দাঁড়ায় চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জ সিএনবি পাড়ার এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবারের জন্য। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর হাতিয়ে নিয়ে ওই তরুণীর প্রতিবন্ধী ভাতার ২ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাত ১২টার দিকে তাঁদের মোবাইল ফোনে কল করেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ১০০ টাকা পাঠানো হয়েছে। অর্থ জমা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে মোবাইলের এসএমএস দেখতে বলেন তিনি।

ফোনকারীর নির্দেশনা অনুসরণ করে বার্তা যাচাই করে টাকা পাঠানোর একটি এসএমএস দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর আরও ৩০০ ও ১৫০ টাকা পাঠানোর বার্তাও আসে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জানতে চান। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ভেবে তাঁর কথায় আস্থা রেখে পরিবারের সদস্যরা পিন নম্বর জানিয়ে দেন।

এরপর অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স যাচাই করতে গিয়ে তাঁদের মাথায় হাত পড়ে। দেখা যায়, সেখানে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকাই আর নেই। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, ২ হাজার ১০০, ৩০০ ও ১৫০ টাকা জমা হওয়ার যে এসএমএস পেয়েছিলেন, সেগুলো ছিল প্রতারকদের পাঠানো ভুয়া বার্তা। সরকারি দপ্তরের পরিচয় ব্যবহার করে কৌশলে পিন নম্বর সংগ্রহের পরই অ্যাকাউন্টের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভুক্তভোগী তরুণীর মায়ের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ভাতার এই অর্থ তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে মেয়ের জন্য রাষ্ট্রের দেওয়া এই সহায়তাই ছিল তাঁদের নির্ভরতার একটি জায়গা। অথচ প্রতারণার শিকার হয়ে সেই অর্থও হারাতে হয়েছে তাঁদের।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কেদারগঞ্জ সিএনবি পাড়া এলাকায় ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যাঁদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা, তাঁদের ভাতার অর্থই যদি প্রতারকদের কবলে পড়ে, তাহলে অসহায় মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গার সুরাইয়ার জোড়া সাফল্য, এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫

চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর ভাতার ২৫০০ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকচক্র

প্রকাশের সময় : ০১:০২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি ভাতার অর্থ পাওয়ার আশায় মোবাইল ফোনে আসা একটি কলের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেই বিশ্বাসই কাল হয়ে দাঁড়ায় চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জ সিএনবি পাড়ার এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবারের জন্য। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর হাতিয়ে নিয়ে ওই তরুণীর প্রতিবন্ধী ভাতার ২ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাত ১২টার দিকে তাঁদের মোবাইল ফোনে কল করেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ১০০ টাকা পাঠানো হয়েছে। অর্থ জমা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে মোবাইলের এসএমএস দেখতে বলেন তিনি।

ফোনকারীর নির্দেশনা অনুসরণ করে বার্তা যাচাই করে টাকা পাঠানোর একটি এসএমএস দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর আরও ৩০০ ও ১৫০ টাকা পাঠানোর বার্তাও আসে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জানতে চান। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ভেবে তাঁর কথায় আস্থা রেখে পরিবারের সদস্যরা পিন নম্বর জানিয়ে দেন।

এরপর অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স যাচাই করতে গিয়ে তাঁদের মাথায় হাত পড়ে। দেখা যায়, সেখানে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকাই আর নেই। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, ২ হাজার ১০০, ৩০০ ও ১৫০ টাকা জমা হওয়ার যে এসএমএস পেয়েছিলেন, সেগুলো ছিল প্রতারকদের পাঠানো ভুয়া বার্তা। সরকারি দপ্তরের পরিচয় ব্যবহার করে কৌশলে পিন নম্বর সংগ্রহের পরই অ্যাকাউন্টের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভুক্তভোগী তরুণীর মায়ের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ভাতার এই অর্থ তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে মেয়ের জন্য রাষ্ট্রের দেওয়া এই সহায়তাই ছিল তাঁদের নির্ভরতার একটি জায়গা। অথচ প্রতারণার শিকার হয়ে সেই অর্থও হারাতে হয়েছে তাঁদের।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কেদারগঞ্জ সিএনবি পাড়া এলাকায় ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যাঁদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা, তাঁদের ভাতার অর্থই যদি প্রতারকদের কবলে পড়ে, তাহলে অসহায় মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা