চুয়াডাঙ্গায় বাস ও ইজিবাইক মালিক-চালকদের বিরোধের জেরে রোগীবাহী ইজিবাইক থামিয়ে শিক্ষক রাজু মাস্টারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আলুকদিয়ায় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে জেলা শহর থেকে আলুকদিয়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে একজন রোগীকে নিয়ে একটি ইজিবাইক আলুকদিয়ার দিকে যাচ্ছিল। দৌলতদিয়াড় এলাকায় বাস মালিক-চালকদের চেকপোস্টে ইজিবাইকটি থামানোকে কেন্দ্র করে গাড়িতে থাকা আলুকদিয়ার বাসিন্দা শিক্ষক রাজু মাস্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বাস মালিক সমিতির লোকজন জড়িত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর আলুকদিয়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাজু মাস্টারকে মারধরের প্রতিবাদ এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁরা আলুকদিয়া বাজারসংলগ্ন প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় লোকাল বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে শহর ও আলুকদিয়ার মধ্যে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে।
অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটে আটকা পড়েন যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও পথচারীরা। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাধারণ মানুষকে এমন দুর্ভোগে পড়তে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। তিনি বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কথা বলে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে ঘটনাস্থলে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি বাস ও ইজিবাইক মালিক-চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি রোববার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও আশ্বস্ত করেন তিনি।
তাঁর হস্তক্ষেপ ও আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকা যানবাহন চলাচল শুরু করলে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস ও ইজিবাইক মালিক-চালকদের মধ্যে বিরোধের জেরেই এ ঘটনার সূত্রপাত। তাঁদের দাবি, রোগীবাহী ইজিবাইক থামানো এবং শিক্ষক রাজু মাস্টারকে মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 




















