০৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিজারের পর সংক্রমণ, ফের অস্ত্রোপচার; ক্ষতিপূরণ না পেয়ে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর স্ত্রীর পেটে সংক্রমণ ও পরবর্তী সময়ে পুনরায় অস্ত্রোপচার করানোর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলু ও তাঁর ছেলে আবিরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. সন্টু রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তি।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে সন্টু রহমান উল্লেখ করেন, তাঁর স্ত্রী মোছা. চুমকি খাতুনের গত ২০ আগস্ট আলমডাঙ্গা থানাধীন আনন্দধাম রোডসংলগ্ন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচারে বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক ভাঙচুর

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের পর অপারেশনের স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই সেলাই করা হয়। এ সময় সেখানে চিকিৎসক চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. জিয়া উদ্দিন হাদী, ডা. সালাম ও অভিযুক্ত আবির উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার করেছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. জিয়া উদ্দিন হাদী।

সন্টুর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর স্ত্রীর পেটে অস্বাভাবিক জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়। বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি সেটিকে গ্যাসের ব্যথা বলে কিছু ওষুধ দেন। কিন্তু ওষুধ সেবনের পরও ব্যথার কোনো উন্নতি না হওয়ায় স্ত্রীকে চিকিৎসক ডা. জিয়া উদ্দিন হাদীর কাছে নিয়ে যান তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চিকিৎসক হাদী নিজ হাতে তাঁর স্ত্রীর পেট পরীক্ষা করে পুনরায় আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ওষুধ লিখে দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চুমকি খাতুনকে আবারও ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তাঁর পেটের জ্বালাযন্ত্রণা না কমায় গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে কুষ্টিয়ার চিকিৎসক ডা. এস এম মুসা করিবের কাছে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

প্রসূতির মৃত্যু : চুয়াডাঙ্গায় এ.আর হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের নির্দেশ, তদন্ত কমিটি গঠন

সন্টু রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক সনজিনের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার কারণে পেটের ভেতরে ময়লা জমে সংক্রমণ হয়েছে। পরে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী জানান, ওই পরামর্শ অনুযায়ী গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর স্ত্রীকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন সন্টু।

অভিযোগে সন্টু আরও দাবি করেন, বিষয়টি আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হওয়া সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা চাইলে তাঁকে আজ-কাল করে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে বাকি টাকা দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে এ বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে মো. সাজাহান, রফিকুল ইসলাম ও মো. বেল্টুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া আরও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী সন্টু রহমান বলেন, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র এবং ধারদেনা করে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করেছেন। অভিযুক্তরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাকি অর্থ পরিশোধ না করলে তাঁর স্ত্রীর পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং বিনা চিকিৎসায় তাঁর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় উপশন নার্সিং হোম ক্লিনিকে অস্ত্রপচারের সময় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন নারী

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী বাবলু। তিনি বলেন, চুমকি খাতুনের অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যানেসথেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম। তাঁর দাবি, অস্ত্রোপচারের পর রোগী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। পরে যে কোন কারণে হয়তো পেটের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না দাবি করে বাবলু বলেন, অপারেশনের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার কারণে সংক্রমণ হয়েছে—এটি অভিযোগকারীর অজানা কথা। তাঁর প্রশ্ন, কোনো চিকিৎসক অপারেশনের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করবেন কি না। তাঁর দাবি, সবকিছু যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই করা হয়েছে।

বাবলু আরও বলেন, কুষ্টিয়ায় রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছিল। পরে তাঁদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

চিকিৎসায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বাবলু বলেন, রোগীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তবে সব মিলিয়ে চিকিৎসা বাবদ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে, এর বেশি নয় বলে তাঁর দাবি।

অভিযোগে উত্থাপিত বিষয় সম্পর্কে জানতে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী গত বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দিতে এসেছিলেন। বিষয়টি জেনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

সিজারের পর সংক্রমণ, ফের অস্ত্রোপচার; ক্ষতিপূরণ না পেয়ে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সিজারের পর সংক্রমণ, ফের অস্ত্রোপচার; ক্ষতিপূরণ না পেয়ে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর স্ত্রীর পেটে সংক্রমণ ও পরবর্তী সময়ে পুনরায় অস্ত্রোপচার করানোর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলু ও তাঁর ছেলে আবিরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. সন্টু রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তি।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে সন্টু রহমান উল্লেখ করেন, তাঁর স্ত্রী মোছা. চুমকি খাতুনের গত ২০ আগস্ট আলমডাঙ্গা থানাধীন আনন্দধাম রোডসংলগ্ন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচারে বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক ভাঙচুর

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের পর অপারেশনের স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই সেলাই করা হয়। এ সময় সেখানে চিকিৎসক চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. জিয়া উদ্দিন হাদী, ডা. সালাম ও অভিযুক্ত আবির উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার করেছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. জিয়া উদ্দিন হাদী।

সন্টুর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর স্ত্রীর পেটে অস্বাভাবিক জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়। বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি সেটিকে গ্যাসের ব্যথা বলে কিছু ওষুধ দেন। কিন্তু ওষুধ সেবনের পরও ব্যথার কোনো উন্নতি না হওয়ায় স্ত্রীকে চিকিৎসক ডা. জিয়া উদ্দিন হাদীর কাছে নিয়ে যান তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চিকিৎসক হাদী নিজ হাতে তাঁর স্ত্রীর পেট পরীক্ষা করে পুনরায় আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ওষুধ লিখে দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চুমকি খাতুনকে আবারও ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তাঁর পেটের জ্বালাযন্ত্রণা না কমায় গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে কুষ্টিয়ার চিকিৎসক ডা. এস এম মুসা করিবের কাছে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

প্রসূতির মৃত্যু : চুয়াডাঙ্গায় এ.আর হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের নির্দেশ, তদন্ত কমিটি গঠন

সন্টু রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক সনজিনের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার কারণে পেটের ভেতরে ময়লা জমে সংক্রমণ হয়েছে। পরে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী জানান, ওই পরামর্শ অনুযায়ী গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর স্ত্রীকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন সন্টু।

অভিযোগে সন্টু আরও দাবি করেন, বিষয়টি আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হওয়া সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা চাইলে তাঁকে আজ-কাল করে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে বাকি টাকা দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে এ বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে মো. সাজাহান, রফিকুল ইসলাম ও মো. বেল্টুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া আরও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী সন্টু রহমান বলেন, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র এবং ধারদেনা করে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করেছেন। অভিযুক্তরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাকি অর্থ পরিশোধ না করলে তাঁর স্ত্রীর পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং বিনা চিকিৎসায় তাঁর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় উপশন নার্সিং হোম ক্লিনিকে অস্ত্রপচারের সময় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন নারী

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী বাবলু। তিনি বলেন, চুমকি খাতুনের অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যানেসথেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম। তাঁর দাবি, অস্ত্রোপচারের পর রোগী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। পরে যে কোন কারণে হয়তো পেটের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না দাবি করে বাবলু বলেন, অপারেশনের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার কারণে সংক্রমণ হয়েছে—এটি অভিযোগকারীর অজানা কথা। তাঁর প্রশ্ন, কোনো চিকিৎসক অপারেশনের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করবেন কি না। তাঁর দাবি, সবকিছু যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই করা হয়েছে।

বাবলু আরও বলেন, কুষ্টিয়ায় রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছিল। পরে তাঁদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

চিকিৎসায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বাবলু বলেন, রোগীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তবে সব মিলিয়ে চিকিৎসা বাবদ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে, এর বেশি নয় বলে তাঁর দাবি।

অভিযোগে উত্থাপিত বিষয় সম্পর্কে জানতে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী গত বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দিতে এসেছিলেন। বিষয়টি জেনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।