চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালুসহ তিন দফা দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় তিন ঘণ্টা রেলপথ অবরোধের পর স্বাভাবিক হয়েছে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১টা ২৫ মিনিটের দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে নিশ্চিত করে বলেন, দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা রেলপথ অবরোধ তুলে নিয়েছেন। এতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল তাকে জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেল মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌছালে সেটি আটকে দিয়ে অবরোধ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এ অবরোধের কারণে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে ট্রেন। দুর্ভোগে পড়েন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবিতে তাঁদের তিন দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—অন্তত দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
অবরোধের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
অবরোধ চলাকালে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আটকে ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পেয়ে অনেকের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ সাদিয়া নামের এক যাত্রী ঈশ্বরদী যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যদিকে পোড়াদহগামী এক কাপড় ব্যবসায়ীও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন।
ট্রেন চলাচল স্বাভাবিকের বিষয়ে জানতে চেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অবরোধ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদ।
এএইচ
জীবননগর অফিস 



















