০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নামে অপপ্রচার!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক শ্রেণির মানুষ অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন চুয়াডাঙ্গায় নতুন যোগ দেওয়া পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেছেন, ফেসবুকে কিছুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য ও পোস্ট করছেন অনেক নেটিজেন। আর বিষয়টি স্থানীয় কিছু অনলাইন মিডিয়াও প্রচার করেছে। এতে তার সম্মানহানি ঘটছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ সুপারের নামে এই ধরনের অপপ্রচার স্থানীয় সুধী সমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অপপ্রচার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং একজন সৎ ও জনবান্ধব পুলিশের জন্য লজ্জাজনক এবং স্থানীয় জনগণের জন্যও অপমানজনক।

তথ্য অনুযায়ী, গৌতম কুমার বিশ্বাস চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এখান থেকে তাকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি নৌ পুলিশের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তার আগে আড়াই বছর পিবিআই, ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন।

এরও আগে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি একজন জনবান্ধব, সৎ ও অসাম্প্রদায়িক কর্মকর্তা হিসেবে পাবনায় প্রশংসিত ছিলেন। এ জেলায় পথশিশু এবং মাদ্রাসার এতিম শিশুদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দারুল আনাম ট্রাস্টের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন।

অথচ কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ, তিনি মাহফিল বন্ধ করেছিলেন। তবে এটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ। অথচ, দারুল আনাম ট্রাস্টসহ স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, সেই বছর মাহফিল যথারীতি সম্পন্ন হয়।

দারুল আনাম ট্রাস্টের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একজন বক্তা মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত থাকায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে তার অংশগ্রহণে আপত্তি জানানো হয়েছিল; ফলে বিকল্প বক্তা দিয়ে সুষ্ঠুভাবে মাহফিল সম্পন্ন করা হয়।

তিনি পাবনায় দায়িত্ব পালনকালে কখনও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করেননি। তৎকালীন সরকারের অন্যায় ও প্রতিহিংসামূলক কোনো নির্দেশ তিনি বাস্তবায়ন করেননি। বরং তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও তার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়; বরং তার পিতা স্থানীয় বিএনপি নেতা। জুলাই-বিপ্লবের এক বছর পর এসে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো অনুচিত।

স্থানীয় জনসাধারণ এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, গৌতম কুমার বিশ্বাস একজন দক্ষ, সৎ এবং জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা। তার কাজ দল বা ব্যক্তির স্বার্থ নয়, বরং আইন ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত।

সুতরাং এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত, যা জাতির এবং সমাজের কল্যাণে সহায়ক হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা স্থগিত, নতুন প্রশ্নে পরবর্তী পরীক্ষা

চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নামে অপপ্রচার!

প্রকাশের সময় : ০৭:০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক শ্রেণির মানুষ অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন চুয়াডাঙ্গায় নতুন যোগ দেওয়া পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেছেন, ফেসবুকে কিছুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য ও পোস্ট করছেন অনেক নেটিজেন। আর বিষয়টি স্থানীয় কিছু অনলাইন মিডিয়াও প্রচার করেছে। এতে তার সম্মানহানি ঘটছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ সুপারের নামে এই ধরনের অপপ্রচার স্থানীয় সুধী সমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অপপ্রচার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং একজন সৎ ও জনবান্ধব পুলিশের জন্য লজ্জাজনক এবং স্থানীয় জনগণের জন্যও অপমানজনক।

তথ্য অনুযায়ী, গৌতম কুমার বিশ্বাস চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এখান থেকে তাকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি নৌ পুলিশের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তার আগে আড়াই বছর পিবিআই, ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন।

এরও আগে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি একজন জনবান্ধব, সৎ ও অসাম্প্রদায়িক কর্মকর্তা হিসেবে পাবনায় প্রশংসিত ছিলেন। এ জেলায় পথশিশু এবং মাদ্রাসার এতিম শিশুদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দারুল আনাম ট্রাস্টের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন।

অথচ কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ, তিনি মাহফিল বন্ধ করেছিলেন। তবে এটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ। অথচ, দারুল আনাম ট্রাস্টসহ স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, সেই বছর মাহফিল যথারীতি সম্পন্ন হয়।

দারুল আনাম ট্রাস্টের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একজন বক্তা মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত থাকায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে তার অংশগ্রহণে আপত্তি জানানো হয়েছিল; ফলে বিকল্প বক্তা দিয়ে সুষ্ঠুভাবে মাহফিল সম্পন্ন করা হয়।

তিনি পাবনায় দায়িত্ব পালনকালে কখনও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করেননি। তৎকালীন সরকারের অন্যায় ও প্রতিহিংসামূলক কোনো নির্দেশ তিনি বাস্তবায়ন করেননি। বরং তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও তার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়; বরং তার পিতা স্থানীয় বিএনপি নেতা। জুলাই-বিপ্লবের এক বছর পর এসে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো অনুচিত।

স্থানীয় জনসাধারণ এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, গৌতম কুমার বিশ্বাস একজন দক্ষ, সৎ এবং জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা। তার কাজ দল বা ব্যক্তির স্বার্থ নয়, বরং আইন ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত।

সুতরাং এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত, যা জাতির এবং সমাজের কল্যাণে সহায়ক হবে।