সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোরগ পোলাও খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে আলোচিত শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজ-এর রান্নাঘর ও শোরুমে কোনো ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শহীদ আলাউল ইসলাম সড়ক এলাকায় এ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরিয়ানি খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিরিয়ানি হাউজগুলোর রান্নাঘর, খাদ্য উপাদান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিধি ও সার্বিক পরিবেশ নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করা হয়।
অভিযানে মো. আনিছজ্জামানের ‘ঢাকা কাচ্চি বাড়ি’-তে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
অন্যদিকে, শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজ-এ পরিচালিত তদারকিতে রান্নাঘর ও শোরুমে কোনো ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধ উপাদান, যেমন—নিষিদ্ধ কেওড়া জল, ফুড কালার বা অন্য কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরিয়ানি খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ‘ঢাকা কাচ্চি বাড়ি’কে জরিমানা করা হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই—এই সময়ে শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ থেকে মোরগ পোলাও খেয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে একজন নারী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী কয়েকজন, যাদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা কলেজ ছাত্রদলের এক নেতাও রয়েছেন।
তারা জানান, শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ থেকে মোরগ পোলাও খাওয়ার পরপরই তাদের তীব্র পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। ভুক্তভোগীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করলে বিষয়টি নজরে আসে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিরিয়ানি হাউজগুলোতে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















