০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষকের ফেসবুক পোস্টে ফিরে পেলো ভাইকে, বোনের মুখে ফুটলো আনন্দের হাসি

চুয়াডাঙ্গার এক শিক্ষকের উদ্যোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে প্রায় ২ মাস আগে হারিয়ে যাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইকে ফিরে পেলেন তার বোন। মানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের হুলিয়ামারী গ্রামের গোলাপনগর এলাকায়।

বুধবার (১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে পথচারীরা তাকে দেখতে পান শারীরিকভাবে দুর্বল, মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি পড়ে আছেন রাস্তার পাশে। কে এই মানুষ, কোথা থেকে এসেছেন, কিছুই জানত না কেউ। কৌতূহলী গ্রামবাসী যখন চারপাশে ভিড় জমাচ্ছেন, তখন সেখানে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। তিনি অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডি “Shiplu Ahsan Habib” এ পোস্ট করেন।

ফেসবুক পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সাড়া মেলে। স্থানীয় গ্রামবাসী শিশির ও গ্রাম পুলিশ ইসমাঈল হোসেন যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষক শিপলু অসহায় ওই ব্যক্তিকে হাসানুজ্জামান রিগানের সহায়তায় নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার নাম মো. নাসির উদ্দিন। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানাধীন সোনাবাড়িয়া গ্রামের মৃত. কাশেম সানার ছেলে।

এক পর্যায়ে নাসির উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক শিপলুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তার বোনসহ স্বজনরা চুয়াডাঙ্গায় এসে তাকে গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত থেকে পরিচয় নিশ্চিত করেন তিতুদহ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন।

আহসান হাবীব শিপলু বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই আমি তার পাশে দাঁড়াই। প্রথম দেখায় তিনি ছিলেন অসহায় ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পরিচয় জানার কোনো উপায় ছিল না। তাই ছবি ও তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করি। এরপরই সবকিছু বদলে যায়। সবার সহযোগিতায় তার পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো—এক বোন বহুদিন পর তার হারানো ভাইকে ফিরে পেয়েছেন। এ দৃশ্য দেখে আমার নিজেরও চোখ ভিজে আসে। যদি আমার ছোট্ট উদ্যোগে কারও মুখে হাসি ফোটে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ভাইকে ফিরে পেয়ে নাসির উদ্দিনের বোন আনন্দে কেঁদে ফেলেন। স্থানীয়রা এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ভাইকে ফিরে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বোন গুরবান বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে আমার ভাইকে খুঁজছিলাম। কোথাও তাকে পাচ্ছিলাম না। আজকে সবার সহযোগিতায় তাকে ফিরে পেয়েছি। শিপলু স্যারকে সারাজীবন মনে রাখব।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা স্থগিত, নতুন প্রশ্নে পরবর্তী পরীক্ষা

চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষকের ফেসবুক পোস্টে ফিরে পেলো ভাইকে, বোনের মুখে ফুটলো আনন্দের হাসি

প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার এক শিক্ষকের উদ্যোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে প্রায় ২ মাস আগে হারিয়ে যাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইকে ফিরে পেলেন তার বোন। মানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের হুলিয়ামারী গ্রামের গোলাপনগর এলাকায়।

বুধবার (১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে পথচারীরা তাকে দেখতে পান শারীরিকভাবে দুর্বল, মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি পড়ে আছেন রাস্তার পাশে। কে এই মানুষ, কোথা থেকে এসেছেন, কিছুই জানত না কেউ। কৌতূহলী গ্রামবাসী যখন চারপাশে ভিড় জমাচ্ছেন, তখন সেখানে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। তিনি অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডি “Shiplu Ahsan Habib” এ পোস্ট করেন।

ফেসবুক পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সাড়া মেলে। স্থানীয় গ্রামবাসী শিশির ও গ্রাম পুলিশ ইসমাঈল হোসেন যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষক শিপলু অসহায় ওই ব্যক্তিকে হাসানুজ্জামান রিগানের সহায়তায় নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার নাম মো. নাসির উদ্দিন। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানাধীন সোনাবাড়িয়া গ্রামের মৃত. কাশেম সানার ছেলে।

এক পর্যায়ে নাসির উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক শিপলুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তার বোনসহ স্বজনরা চুয়াডাঙ্গায় এসে তাকে গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত থেকে পরিচয় নিশ্চিত করেন তিতুদহ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন।

আহসান হাবীব শিপলু বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই আমি তার পাশে দাঁড়াই। প্রথম দেখায় তিনি ছিলেন অসহায় ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পরিচয় জানার কোনো উপায় ছিল না। তাই ছবি ও তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করি। এরপরই সবকিছু বদলে যায়। সবার সহযোগিতায় তার পরিবার খুঁজে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো—এক বোন বহুদিন পর তার হারানো ভাইকে ফিরে পেয়েছেন। এ দৃশ্য দেখে আমার নিজেরও চোখ ভিজে আসে। যদি আমার ছোট্ট উদ্যোগে কারও মুখে হাসি ফোটে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ভাইকে ফিরে পেয়ে নাসির উদ্দিনের বোন আনন্দে কেঁদে ফেলেন। স্থানীয়রা এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ভাইকে ফিরে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বোন গুরবান বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে আমার ভাইকে খুঁজছিলাম। কোথাও তাকে পাচ্ছিলাম না। আজকে সবার সহযোগিতায় তাকে ফিরে পেয়েছি। শিপলু স্যারকে সারাজীবন মনে রাখব।”