০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের পর যুবকের ঝুলন্ত অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর সুজন আলী (৩২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে নিজ বাড়ির একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুজন আলী আসাননগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজন আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। শ্রমিকের কাজ করলেও পরিবারের খরচ বহন না করা নিয়ে প্রায়ই তার সংসারে কলহ লেগে থাকত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি স্ত্রী লিমা খাতুনকে মারধর করে তিন সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

স্বজনদের ভাষ্য, সোমবার সকালে সুজনের বড় ছেলে লিমন বাবার খোঁজ নিতে বাড়িতে এসে ঘরের বাইরে তালা ঝুলতে দেখেন। এ সময় ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। সন্দেহ হলে টিনের চালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে তিনি ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় বাবার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের বড় বোন হাসি খাতুন অভিযোগ করেন, মাদকাসক্তির কারণে সুজনের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল এবং তিনি প্রায়ই স্ত্রী-সন্তানদের মারধর করতেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ঘরের বাইরে তালা লাগানো ছিল। আত্মহত্যা হলে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ থাকার কথা। তাই আমরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছি।”

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের পর যুবকের ঝুলন্ত অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

প্রকাশের সময় : ০৭:১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর সুজন আলী (৩২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে নিজ বাড়ির একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুজন আলী আসাননগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজন আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। শ্রমিকের কাজ করলেও পরিবারের খরচ বহন না করা নিয়ে প্রায়ই তার সংসারে কলহ লেগে থাকত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি স্ত্রী লিমা খাতুনকে মারধর করে তিন সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

স্বজনদের ভাষ্য, সোমবার সকালে সুজনের বড় ছেলে লিমন বাবার খোঁজ নিতে বাড়িতে এসে ঘরের বাইরে তালা ঝুলতে দেখেন। এ সময় ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। সন্দেহ হলে টিনের চালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে তিনি ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় বাবার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের বড় বোন হাসি খাতুন অভিযোগ করেন, মাদকাসক্তির কারণে সুজনের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল এবং তিনি প্রায়ই স্ত্রী-সন্তানদের মারধর করতেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ঘরের বাইরে তালা লাগানো ছিল। আত্মহত্যা হলে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ থাকার কথা। তাই আমরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছি।”

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে রহস্য রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”