চুয়াডাঙ্গায় ছাত্র সমাজের আয়োজনে ২৪ এর জুলাই আন্দোলন করা আহত যোদ্ধা ও সমর্থনকারীদের সংবর্ধনা হিসেবে “আমার চোখে বাংলাদেশ” নামক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে চুয়াডাঙ্গা ছাত্র সমাজের উদ্যোগে এ সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি এবং আগামীর পথচলা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলার ২ জুলাই শহীদ পরিবারের হাতে স্মৃতিফলক শহীদদের ছবি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই সমর্থনকারীদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ শাহরিয়ার শুভর পিতা মো. আবু সাইদ এবং শহীদ মাসুদ রানার বড় ভাই বাবুল আক্তার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. সাফফাতুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা। এছাড়া জেলা ছাত্র সমাজের নেতাকর্মী, প্রায় ৭০-৮০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সে সময় জুলাই আন্দোলনের অংশ নেওয়া যোদ্ধারা এবং সেই সময় মাঠে সংবাদ সংগ্রহ করা গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া আলমডাঙ্গা শহরের রাকিব বলেন, আমরা সে সময় আন্দোলন করেছিলাম স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট হটানোর দাবিতে এবং স্বপ্ন দেখেছিলাম নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার। যেখানে থাকবে না দুর্নীতি,অনিয়ম,চাঁদাবাজি,লেজুরবৃত্তি।
কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় এগুলো এখনো কিছুই কমেনি। আরো দুঃখ হয় যারা আন্দোলনে জীবন বাজিয়ে রেখে অংশ নিয়েছে তাদের ভিতরেও ভাইবাজি,আত্মীয়বাজি,স্বজনপ্রীতি মানসিকতার লোকজন ঢুকে আমাদের কমিটি কে কলুষিত করেছে।
জুলাই আন্দোলনের ট্যাগ লাগিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। ডিসি অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জুলাইকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কমিটিতে ঢুকে অনিয়ম করছে।
চুয়াডাঙ্গার তরুণ গণমাধ্যমকর্মী জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা ও ইংরেজি পত্রিকায় ডেইলি মর্নিং গ্লোরির জেলা প্রতিনিধি মেহেরাব্বিন সানভি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানও অনস্বীকার্য। কিন্তু দুঃখ হয় জুলাই আন্দোলনের পর বৈষম্য বিরোধীর জেলা উপজেলার যেসব কমিটি দেওয়া হয়েছে। সেসব কমিটির নেতৃস্থানীয়রা গণমাধ্যম কর্মীদের খোঁজখবর নেয়নি। অন্তত তাদের সেসব দিনের গল্প শোনার জন্য হলেও তাদের সাথে বসা উচিত ছিল।
আমরা জুলাই আন্দোলনে যারা সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি তারাও কিন্তু ঝুঁকির মধ্যে ছিলাম। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে তথ্য প্রচারের পর পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছিলাম।
তবে এক বছর পার হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে আমাদের ত্যাগ অপ্রকাশিত হয়ে আছে। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজখবর রাখেনি।
যারা চুয়াডাঙ্গায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কমিটিতে আছেন সে সব জায়গায় নেতৃস্থানীয়রা বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে সেইসব অভিযোগও আমাদের কাছে আসছে প্রতিনিয়ত।
আপনাদের আন্দোলন যৌক্তিক ছিল গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমরা সহযোগিতা করেছি পাশে থেকেছি।
তবে এখন আপনারা যদি দুর্নীতি অনিয়ম চাঁদাবাজি এগুলো করেন আমরা সেগুলোও প্রকাশ করব মুখ বুজে থাকবো না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে রচিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিক স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে।
প্রশ্ন করতে পারছেন তবে কিছু কিছু দল বা রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজন নির্বাচনের কথা শোনাচ্ছে। নির্বাচনের জন্য কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান হয়নি। তখনকার সময় দেয়ালে দেয়ালে স্লোগান লেখা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছে সেই স্বপ্ন আমার আপনার সবারই উচিত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা।
আমি আরো বলতে চাই,যে স্বৈরাচার হটানোর জন্য আন্দোলন হয়েছে যদি নতুন করে সেই স্বৈরাচার কেউ বা কারা তৈরি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আবার আন্দোলন গড়ে তুলবো।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই,আপনারা এখন স্বাধীনভাবে লিখতে পারছেন,বলতে পারছেন,প্রশ্ন করতে পারছেন। আপনারা সঠিক সত্য সব সময় তুলে ধরেছেন। জুলাই আন্দোলনে আপনাদের অবদান অনেক। তবে এখন শুধু দেখি কে হাঁসের মাংস খাওয়ার জন্য ওয়েস্টিনে যাচ্ছে সেটা নিয়ে নিউজ করছেন। নিউজ করেন ভালো কথা কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে নিউজ করার থেকে কোথায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারী,টেন্ডারবাজি হচ্ছে এসবগুলো তুলে ধরেন।
আসুন দেশ বিনির মানে আমরা সকলে নিজ নিজ জায়গা থেকে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলি। এদেশ আমার আপনার সকলের।
এএইচ
শাকিব আল হাসান 



















