১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার দুই উপজেলা নির্বাচনে যারা বিজয়ী হলেন

কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অনেকটাই শান্তিপূণ ও সুনসান পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন।

বুধবার (৮ মে) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে এ দুটি উপজেলার ভোট গ্রহন। ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভোটাররা।

টানা ৮ ঘণ্টা ভোট গ্রহন কার্যক্রম চলার পর বিকেল ৪টার পর থেকে শুরু হয় ভোট গণনা। এরপর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এতে বেসরকারিভাবে দামুড়হুদা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দ্বিতীয় দফায় আলি মুনছুর বাবু ও জীবননগর উপজেলায় হাফিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

নতুন পুরনোর এ লড়াইয়ে পুরনো চেয়ারম্যানরাই আবারও জয়ী হয়েছেন। ভোট চলাকালে দেখা যায়, সকাল থেকেই দুটি উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সাধারন ভোটারের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বেলা গড়ালেও সেভাবে বাড়েনি উপস্থিতির হার। সবমিলিয়ে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় ভোট প্রদত্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৩ এবং ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশে।


ফলাফলের হিসাবে দেখা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলায় আনারস প্রতীকের প্রার্থী আলি মুনছুর বাবু ৪৯ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের এস এ এম জাকারিয়া আলম পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫৩০ টি ভোট। আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের অ্যাড. আবু তালেবের মোট প্রাপ্ত ভোট ২ হাজার ৫৯০টি।


এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শফিউল কবীর ইউসুফ নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এ পদে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয়নি। অপরদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তানিয়া খাতুন ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৩৩ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাহিদা খাতুন। তিনি কলস প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৪৭ ভোট পেয়েছেন।


দামুড়হুদা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৯ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৩ জন। উপজেলার মোট ৯৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন ৩ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন। এখানে মোট ভোটারের মধ্যে প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
জীবননগর উপজেলায় কাপ-পিরিচ প্রতীকের হাফিজুর রহমান ৩৩ হাজার ৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এসকে লিটনের আনারস প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ৬১৭ টি ভোট পেয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈসা নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এ পদে এখানেও ভোট গ্রহন হয়নি। তবে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেনুকা আক্তার রিতা হাঁস প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এক মাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী। তিনি কলস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৭১ ভোট।


এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ১৬৭ জন ও নারী ভোটার ৭৭ হাজার ২২৯ জন। উপজেলার মোট ৬২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন ২জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন। এ উপজেলায় মোট ভোট প্রদত্ত হয়েছে ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

চুয়াডাঙ্গার দুই উপজেলা নির্বাচনে যারা বিজয়ী হলেন

প্রকাশের সময় : ০২:০২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪

কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অনেকটাই শান্তিপূণ ও সুনসান পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন।

বুধবার (৮ মে) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে এ দুটি উপজেলার ভোট গ্রহন। ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভোটাররা।

টানা ৮ ঘণ্টা ভোট গ্রহন কার্যক্রম চলার পর বিকেল ৪টার পর থেকে শুরু হয় ভোট গণনা। এরপর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এতে বেসরকারিভাবে দামুড়হুদা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দ্বিতীয় দফায় আলি মুনছুর বাবু ও জীবননগর উপজেলায় হাফিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

নতুন পুরনোর এ লড়াইয়ে পুরনো চেয়ারম্যানরাই আবারও জয়ী হয়েছেন। ভোট চলাকালে দেখা যায়, সকাল থেকেই দুটি উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সাধারন ভোটারের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বেলা গড়ালেও সেভাবে বাড়েনি উপস্থিতির হার। সবমিলিয়ে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় ভোট প্রদত্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৩ এবং ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশে।


ফলাফলের হিসাবে দেখা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলায় আনারস প্রতীকের প্রার্থী আলি মুনছুর বাবু ৪৯ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের এস এ এম জাকারিয়া আলম পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫৩০ টি ভোট। আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের অ্যাড. আবু তালেবের মোট প্রাপ্ত ভোট ২ হাজার ৫৯০টি।


এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শফিউল কবীর ইউসুফ নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এ পদে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয়নি। অপরদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তানিয়া খাতুন ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৩৩ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাহিদা খাতুন। তিনি কলস প্রতীক নিয়ে ২৯ হাজার ৪৭ ভোট পেয়েছেন।


দামুড়হুদা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৯ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৩ জন। উপজেলার মোট ৯৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন ৩ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন। এখানে মোট ভোটারের মধ্যে প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
জীবননগর উপজেলায় কাপ-পিরিচ প্রতীকের হাফিজুর রহমান ৩৩ হাজার ৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এসকে লিটনের আনারস প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ৬১৭ টি ভোট পেয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈসা নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এ পদে এখানেও ভোট গ্রহন হয়নি। তবে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেনুকা আক্তার রিতা হাঁস প্রতীক নিয়ে ৩৬ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এক মাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী। তিনি কলস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৭১ ভোট।


এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ১৬৭ জন ও নারী ভোটার ৭৭ হাজার ২২৯ জন। উপজেলার মোট ৬২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন ২জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন। এ উপজেলায় মোট ভোট প্রদত্ত হয়েছে ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এএইচ