০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামী প্যারালাইজড, তিন শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত : নতুন ঘর করে দিলেন আলমডাঙ্গার ইউএনও

  • আলমডাঙ্গা অফিস
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৩ Views

একদিকে স্ট্রোক ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত স্বামী, অন্যদিকে ঘরে তিন ছোট সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় হঠাৎ করেই থমকে যায় আলমডাঙ্গার আসাননগরের শহিদুল ইসলামের পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে অভাব, অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্বে মানবেতর দিন কাটছিল পরিবারটির।

ঠিক এমন এক কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার। সরকারি দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার জায়গা থেকে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিবারটির। শুধু সহায়তা দিয়েই থেমে থাকেননি, নিরাপদে থাকার জন্য তাদের নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি নতুন ঘর।

শহিদুল ইসলামের পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পেরে নিজেই তাদের বাড়িতে ছুটে যান ইউএনও শাহিনুর আক্তার। সেখানে অসুস্থ শহিদুলের শারীরিক অবস্থা এবং ছোট তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। পরিবারের জন্য নগদ অর্থ, টিন ও শুকনা খাবার দেওয়ার পাশাপাশি মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে নির্মাণ করে দেন নতুন একটি ঘর।

অসহায় অবস্থায় এমন সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বলেন, আমার পৃথিবীতে কেউ নেই। আল্লাহর রহমতে শাহিনুর আক্তারের মতো একজন অফিসার আমার বাড়িতে এসে সাহস জুগিয়েছেন—এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া। তিনি শুধু একজন অফিসার নন, আমার বোনের মতো। মাঝে মাঝে নিজে খোঁজ নেন, আবার প্রতিনিধি পাঠিয়েও আমাদের খবর নেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, নগদ টাকা দিয়েছেন, টিন দিয়েছেন, শুকনা খাবার দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের থাকার জন্য নতুন ঘর করে দিয়েছেন। স্বামী অসুস্থ, তিনটা ছোট সন্তান—কীভাবে সংসার চালাব, কীভাবে তাদের বড় করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এমন সময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক চেয়ার-টেবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—মানুষের বিপদের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোও একজন কর্মকর্তার মানবিক দায়িত্বের অংশ। তাদের মতে, শহিদুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও শাহিনুর আক্তার সেই মানবিকতারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নতুন ঘরটি তাই শুধু একটি পরিবারের মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নয়; এটি অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, তিন শিশুর ভবিষ্যৎ এবং অনিশ্চয়তায় ভেঙে পড়া একটি পরিবারের মনে নতুন করে বাঁচার সাহস জাগিয়েছে। দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার মাঝে পরিবারটির কাছে এই ঘর যেন আশ্রয়ের পাশাপাশি আশারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আর তাই আসাননগরের মানুষের মুখে এখন একটাই কথা—তিনি শুধু একজন ইউএনও নন, অসহায় মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো একজন আপনজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কা টা পড়ে বিধবা সামিরণের ৮ ছাগলের মৃ ত্যু, হারালেন বেঁ চে থাকার শেষ অবলম্বন

স্বামী প্যারালাইজড, তিন শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত : নতুন ঘর করে দিলেন আলমডাঙ্গার ইউএনও

প্রকাশের সময় : ০৭:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

একদিকে স্ট্রোক ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত স্বামী, অন্যদিকে ঘরে তিন ছোট সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় হঠাৎ করেই থমকে যায় আলমডাঙ্গার আসাননগরের শহিদুল ইসলামের পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে অভাব, অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্বে মানবেতর দিন কাটছিল পরিবারটির।

ঠিক এমন এক কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার। সরকারি দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার জায়গা থেকে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিবারটির। শুধু সহায়তা দিয়েই থেমে থাকেননি, নিরাপদে থাকার জন্য তাদের নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি নতুন ঘর।

শহিদুল ইসলামের পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পেরে নিজেই তাদের বাড়িতে ছুটে যান ইউএনও শাহিনুর আক্তার। সেখানে অসুস্থ শহিদুলের শারীরিক অবস্থা এবং ছোট তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। পরিবারের জন্য নগদ অর্থ, টিন ও শুকনা খাবার দেওয়ার পাশাপাশি মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে নির্মাণ করে দেন নতুন একটি ঘর।

অসহায় অবস্থায় এমন সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বলেন, আমার পৃথিবীতে কেউ নেই। আল্লাহর রহমতে শাহিনুর আক্তারের মতো একজন অফিসার আমার বাড়িতে এসে সাহস জুগিয়েছেন—এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া। তিনি শুধু একজন অফিসার নন, আমার বোনের মতো। মাঝে মাঝে নিজে খোঁজ নেন, আবার প্রতিনিধি পাঠিয়েও আমাদের খবর নেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, নগদ টাকা দিয়েছেন, টিন দিয়েছেন, শুকনা খাবার দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের থাকার জন্য নতুন ঘর করে দিয়েছেন। স্বামী অসুস্থ, তিনটা ছোট সন্তান—কীভাবে সংসার চালাব, কীভাবে তাদের বড় করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এমন সময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক চেয়ার-টেবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—মানুষের বিপদের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোও একজন কর্মকর্তার মানবিক দায়িত্বের অংশ। তাদের মতে, শহিদুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও শাহিনুর আক্তার সেই মানবিকতারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নতুন ঘরটি তাই শুধু একটি পরিবারের মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নয়; এটি অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, তিন শিশুর ভবিষ্যৎ এবং অনিশ্চয়তায় ভেঙে পড়া একটি পরিবারের মনে নতুন করে বাঁচার সাহস জাগিয়েছে। দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার মাঝে পরিবারটির কাছে এই ঘর যেন আশ্রয়ের পাশাপাশি আশারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আর তাই আসাননগরের মানুষের মুখে এখন একটাই কথা—তিনি শুধু একজন ইউএনও নন, অসহায় মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো একজন আপনজন।