০৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারানো মহিষ ফিরে পেয়ে আবেগে কাঁদলেন চুয়াডাঙ্গার শুকুর আলি, মহিষের চোখেও গড়িয়ে পড়ল পানি

একটি মহিষই ছিল তাঁর জীবিকা ও বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। রাতের আঁধারে সেই মহিষটি গোয়ালঘর থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর দুশ্চিন্তায় কেটেছে পুরো রাত। পরদিন ভোরে হারানো মহিষের সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে বুকভরা আশা নিয়ে ছুটে যান তিনি। আর সেখানে গিয়ে নিজের প্রিয় মহিষটিকে চোখের সামনে দেখতে পেয়েই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আনন্দ ও স্বস্তির অশ্রুতে ভিজে ওঠে তাঁর চোখ। উপস্থিত মানুষের কাছেও মুহূর্তটি হয়ে ওঠে গভীর মানবিক আবেগের।

এমনই হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গোপালদিয়াড় গ্রাম।

মহিষটির মালিক শুকুর আলি আলমডাঙ্গা উপজেলার আঠারোখাদা গ্রামের মৃত উম্মাদ আলির ছেলে। এই মহিষটিই ছিল তাঁর আয়ের প্রধান অবলম্বন এবং জীবন-জীবিকার একমাত্র সম্বল। তবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে গোয়ালঘর থেকে হঠাৎ মহিষটি নিখোঁজ হয়ে যায়। একমাত্র সম্বল হারিয়ে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় সারারাত পার করেন শুকুর আলি।

এরপর শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে গোপালদিয়াড় গ্রামের জহুরুল ও মইনুলের বাড়ির সামনের রাস্তায় একটি অপরিচিত মহিষ ঘোরাফেরা করতে দেখেন কয়েকজন মুসল্লি। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, মহিষটি গ্রামের কারও নয়। চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো পশু হতে পারে—এমন ধারণা থেকে গ্রামবাসীরা মহিষটিকে নিরাপদ স্থানে বেঁধে রাখেন।

সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে গোপালদিয়াড় গ্রামে অচেনা মহিষ পাওয়ার খবর পৌঁছে যায় পাশের আঠারোখাদা গ্রামে। খবরটি শুনেই শুকুর আলি ছুটে যান গোপালদিয়াড়ে। সেখানে পৌঁছে মহিষটির সামনে দাঁড়ানোর পরই নিশ্চিত হন—এটি তাঁর হারিয়ে যাওয়া মহিষ।

মহিষটিকে ফিরে পাওয়ার সেই মুহূর্তে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শুকুর আলি। দীর্ঘ রাতের উৎকণ্ঠা যেন মুহূর্তেই পরিণত হয় স্বস্তি ও আনন্দে। নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। উপস্থিত লোকজনও লক্ষ্য করেন, মহিষটির চোখ থেকেও পানি গড়িয়ে পড়ছে। দৃশ্যটি দেখে অনেকের কাছেই মনে হয়, দীর্ঘদিন পর হারানো আপনজনকে ফিরে পাওয়ার মতোই আবেগঘন এই পুনর্মিলন।

পরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গোপালদিয়াড় ও আঠারোখাদা গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মহিষটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুকুর আলির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একমাত্র সম্বল ফিরে পেয়ে মহিষটিকে বুকে জড়িয়ে পরম তৃপ্তি ও আনন্দে বাড়ির পথে রওনা হন শুকুর আলি। দীর্ঘ এক রাতের উৎকণ্ঠা শেষে তাঁর কাছে যেন ফিরে আসে জীবিকা, স্বস্তি আর বেঁচে থাকার ভরসাটুকুও।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

ফ্যামিলি কার্ড নারীর জন্য ‘সেফগার্ড’ : চুয়াডাঙ্গায় সংস্কৃতিমন্ত্রী

হারানো মহিষ ফিরে পেয়ে আবেগে কাঁদলেন চুয়াডাঙ্গার শুকুর আলি, মহিষের চোখেও গড়িয়ে পড়ল পানি

প্রকাশের সময় : ০১:০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি মহিষই ছিল তাঁর জীবিকা ও বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। রাতের আঁধারে সেই মহিষটি গোয়ালঘর থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর দুশ্চিন্তায় কেটেছে পুরো রাত। পরদিন ভোরে হারানো মহিষের সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে বুকভরা আশা নিয়ে ছুটে যান তিনি। আর সেখানে গিয়ে নিজের প্রিয় মহিষটিকে চোখের সামনে দেখতে পেয়েই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আনন্দ ও স্বস্তির অশ্রুতে ভিজে ওঠে তাঁর চোখ। উপস্থিত মানুষের কাছেও মুহূর্তটি হয়ে ওঠে গভীর মানবিক আবেগের।

এমনই হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গোপালদিয়াড় গ্রাম।

মহিষটির মালিক শুকুর আলি আলমডাঙ্গা উপজেলার আঠারোখাদা গ্রামের মৃত উম্মাদ আলির ছেলে। এই মহিষটিই ছিল তাঁর আয়ের প্রধান অবলম্বন এবং জীবন-জীবিকার একমাত্র সম্বল। তবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে গোয়ালঘর থেকে হঠাৎ মহিষটি নিখোঁজ হয়ে যায়। একমাত্র সম্বল হারিয়ে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় সারারাত পার করেন শুকুর আলি।

এরপর শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে গোপালদিয়াড় গ্রামের জহুরুল ও মইনুলের বাড়ির সামনের রাস্তায় একটি অপরিচিত মহিষ ঘোরাফেরা করতে দেখেন কয়েকজন মুসল্লি। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, মহিষটি গ্রামের কারও নয়। চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো পশু হতে পারে—এমন ধারণা থেকে গ্রামবাসীরা মহিষটিকে নিরাপদ স্থানে বেঁধে রাখেন।

সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে গোপালদিয়াড় গ্রামে অচেনা মহিষ পাওয়ার খবর পৌঁছে যায় পাশের আঠারোখাদা গ্রামে। খবরটি শুনেই শুকুর আলি ছুটে যান গোপালদিয়াড়ে। সেখানে পৌঁছে মহিষটির সামনে দাঁড়ানোর পরই নিশ্চিত হন—এটি তাঁর হারিয়ে যাওয়া মহিষ।

মহিষটিকে ফিরে পাওয়ার সেই মুহূর্তে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শুকুর আলি। দীর্ঘ রাতের উৎকণ্ঠা যেন মুহূর্তেই পরিণত হয় স্বস্তি ও আনন্দে। নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। উপস্থিত লোকজনও লক্ষ্য করেন, মহিষটির চোখ থেকেও পানি গড়িয়ে পড়ছে। দৃশ্যটি দেখে অনেকের কাছেই মনে হয়, দীর্ঘদিন পর হারানো আপনজনকে ফিরে পাওয়ার মতোই আবেগঘন এই পুনর্মিলন।

পরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গোপালদিয়াড় ও আঠারোখাদা গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মহিষটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুকুর আলির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একমাত্র সম্বল ফিরে পেয়ে মহিষটিকে বুকে জড়িয়ে পরম তৃপ্তি ও আনন্দে বাড়ির পথে রওনা হন শুকুর আলি। দীর্ঘ এক রাতের উৎকণ্ঠা শেষে তাঁর কাছে যেন ফিরে আসে জীবিকা, স্বস্তি আর বেঁচে থাকার ভরসাটুকুও।