০৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসী পরিবারের বাড়ি-জমি ও দোকানপাট দখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসী পরিবারের জমিসহ বাড়ি এবং বাড়ির নিচে থাকা দোকানপাট দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোছা. সুবর্ণা মুস্তারী।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুবর্ণা মুস্তারী জানান, তিনি আলমডাঙ্গা কাচারীপাড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে জার্মানিতে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস অসুস্থতাজনিত কারণে ২০১৩ সালে মারা যান। তাদের দুই মেয়ে সানাইয়া বিশ্বাস ও সোনম বিশ্বাস। স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ও তার দুই মেয়ে স্বামীর জমাজমিসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অংশীদার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সুবর্ণা মুস্তারীর অভিযোগ, তিনি ও তার দুই মেয়ে স্থায়ীভাবে জার্মানিতে বসবাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার দেবর অহিদুজ্জামান লেন্টু ও তার স্ত্রী ডালিয়ারা পারভীন শিলা দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা কাচারীপাড়ায় তাদের জমিসহ বাড়ি এবং বাড়ির নিচে থাকা দোকানপাট নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে তাদের অংশের আনুমানিক ৭ ফুট জমি দখল করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে বাধা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা হয়, যা বর্তমানে চলমান। তার দাবি, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে ওই জায়গায় হস্তক্ষেপ ও নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে নিজের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তাটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণা মুস্তারী আরও বলেন, গত ২ আগস্ট ২০২৬ তিনি ও তার দুই মেয়ে দেশে আসেন। দেশে ফেরার পর নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও দেশে এসে ওই বাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে তারা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। সুবর্ণা মুস্তারীর অভিযোগ, পুলিশের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেওয়ার কথা বললেও অভিযুক্তরা তালা খোলেননি; বরং উল্টো হুমকি দিয়েছেন।

সুবর্ণা মুস্তারী বলেন, তারা কোনো ধরনের সংঘাত চান না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষেও নন। দেশের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাই বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব দাবি তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে—অবৈধভাবে জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টা বন্ধ করা, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জমি ও বাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দখলের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে তাদের বৈধ সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ কিংবা দখলের চেষ্টা যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুবর্ণা মুস্তারী বলেন, তারা কোনো বিরোধে জড়াতে চান না; বরং শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের ন্যায্য অধিকার এবং সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

ফ্যামিলি কার্ড নারীর জন্য ‘সেফগার্ড’ : চুয়াডাঙ্গায় সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রবাসী পরিবারের বাড়ি-জমি ও দোকানপাট দখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসী পরিবারের জমিসহ বাড়ি এবং বাড়ির নিচে থাকা দোকানপাট দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোছা. সুবর্ণা মুস্তারী।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুবর্ণা মুস্তারী জানান, তিনি আলমডাঙ্গা কাচারীপাড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে জার্মানিতে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস অসুস্থতাজনিত কারণে ২০১৩ সালে মারা যান। তাদের দুই মেয়ে সানাইয়া বিশ্বাস ও সোনম বিশ্বাস। স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ও তার দুই মেয়ে স্বামীর জমাজমিসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অংশীদার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সুবর্ণা মুস্তারীর অভিযোগ, তিনি ও তার দুই মেয়ে স্থায়ীভাবে জার্মানিতে বসবাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার দেবর অহিদুজ্জামান লেন্টু ও তার স্ত্রী ডালিয়ারা পারভীন শিলা দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা কাচারীপাড়ায় তাদের জমিসহ বাড়ি এবং বাড়ির নিচে থাকা দোকানপাট নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে তাদের অংশের আনুমানিক ৭ ফুট জমি দখল করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে বাধা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা হয়, যা বর্তমানে চলমান। তার দাবি, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে ওই জায়গায় হস্তক্ষেপ ও নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে নিজের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তাটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণা মুস্তারী আরও বলেন, গত ২ আগস্ট ২০২৬ তিনি ও তার দুই মেয়ে দেশে আসেন। দেশে ফেরার পর নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও দেশে এসে ওই বাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলা এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে তারা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। সুবর্ণা মুস্তারীর অভিযোগ, পুলিশের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেওয়ার কথা বললেও অভিযুক্তরা তালা খোলেননি; বরং উল্টো হুমকি দিয়েছেন।

সুবর্ণা মুস্তারী বলেন, তারা কোনো ধরনের সংঘাত চান না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষেও নন। দেশের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাই বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব দাবি তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে—অবৈধভাবে জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টা বন্ধ করা, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জমি ও বাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দখলের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে তাদের বৈধ সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ কিংবা দখলের চেষ্টা যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুবর্ণা মুস্তারী বলেন, তারা কোনো বিরোধে জড়াতে চান না; বরং শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের ন্যায্য অধিকার এবং সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান।