০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড মিলবে’

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড মিলবে।’ নরসিংদীর শিবপুরে এক নারীকে এমন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিবপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে। 

শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী নারী আকলিমা বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ আমাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। ওখানে গেলে আমাকে একটি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফউদ্দিন বলেন, আমার পা ভেঙে গত ৫ মাস যাবৎ ঘরে বসা। এই নারীর সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। আমি কিভাবে তাকে দেখা করতে বলব। 

এদিকে আকলিমা বেগম অভিযোগে আরও বলেন, এর আগেও ওই নেতা গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে।

আশরাফউদ্দিন বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচণায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।  প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনো আমি পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টার সময় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টি সবাই বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি আমার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন।  আমি তা দিতে পারিনি। এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছি। আমি যতটুকু জানি, আশরাফ উদ্দিন এমন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা না। সে ভালো লোক।  প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে গেছে। এখনো ঘরেই বসে থাকে, বের হতে পারে না। এ রকম ব্যক্তি এমন প্রস্তাব দেবে বলে আমার মনে হয় না। 

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি আমরা শুরুই করিনি। শিবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তাহলে এমন কাজ কীভাবে হবে, তা আমার বোধগম্য নয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।  স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

সুত্র : ঢাকা পোস্ট

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে মেহেদী শাহরিয়ারের যোগদান

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড মিলবে’

প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড মিলবে।’ নরসিংদীর শিবপুরে এক নারীকে এমন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিবপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে। 

শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী নারী আকলিমা বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ আমাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। ওখানে গেলে আমাকে একটি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফউদ্দিন বলেন, আমার পা ভেঙে গত ৫ মাস যাবৎ ঘরে বসা। এই নারীর সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। আমি কিভাবে তাকে দেখা করতে বলব। 

এদিকে আকলিমা বেগম অভিযোগে আরও বলেন, এর আগেও ওই নেতা গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে।

আশরাফউদ্দিন বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচণায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।  প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনো আমি পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টার সময় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টি সবাই বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি আমার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন।  আমি তা দিতে পারিনি। এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছি। আমি যতটুকু জানি, আশরাফ উদ্দিন এমন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা না। সে ভালো লোক।  প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে গেছে। এখনো ঘরেই বসে থাকে, বের হতে পারে না। এ রকম ব্যক্তি এমন প্রস্তাব দেবে বলে আমার মনে হয় না। 

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি আমরা শুরুই করিনি। শিবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তাহলে এমন কাজ কীভাবে হবে, তা আমার বোধগম্য নয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।  স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

সুত্র : ঢাকা পোস্ট