০৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে হঠাৎ হ্যাঁ-না পোস্টের প্রতিযোগিতা, জেনে নিন আসল কারণ!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিউজফিডজুড়ে এখন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ পোস্টের ছড়াছড়ি। কে হ্যাঁ বলছেন, কে না বলছেন—তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা ও বিতর্ক।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকেই হঠাৎ করে ফেসবুকে শুরু হয় ‘হ্যাঁ-না’ পোস্ট দেওয়ার নতুন ট্রেন্ড। অধিকাংশ পোস্টেই কেন এই ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। ফলে অনেক সাধারণ ব্যবহারকারী বিভ্রান্ত হচ্ছেন—এর পেছনের কারণ কী, কেনই বা এই প্রচারণা?

মূলত, চলমান গণভোট প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিনটি রাজনৈতিক দলের অবস্থানই গণভোট ইস্যুতে ভিন্ন।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ দিয়েছে, তা নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক।

বিএনপি বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী চায় নভেম্বরে গণভোট হোক। এনসিপি নির্দিষ্ট সময় না জানালেও নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি তুলেছে। ফলে জামায়াত ও এনসিপির দাবি কিছুটা মিল থাকলেও বিএনপি তাদের সঙ্গে একমত নয়।

এই ভিন্নমতই প্রতিফলিত হয়েছে ফেসবুকে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ পোস্টের মাধ্যমে।
একদিকে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা ‘না’ পোস্ট দিচ্ছেন, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি-সমর্থকরা ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় যুক্ত হচ্ছেন।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নিজের প্রোফাইলে ‘না’ পোস্ট দিয়েছেন। বিপরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড পেজ থেকে ‘হ্যাঁ’ লিখে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

এরই মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা হস্তান্তর করেছে কমিশন। কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সবমিলিয়ে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘হ্যাঁ-না’ পোস্ট এখন নতুন এক রাজনৈতিক প্রতীক—যা গণভোট ইস্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে তীব্র বিতর্ক ও আগ্রহ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বেপরোয়া গতির দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ তরুণের

ফেসবুকে হঠাৎ হ্যাঁ-না পোস্টের প্রতিযোগিতা, জেনে নিন আসল কারণ!

প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিউজফিডজুড়ে এখন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ পোস্টের ছড়াছড়ি। কে হ্যাঁ বলছেন, কে না বলছেন—তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা ও বিতর্ক।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকেই হঠাৎ করে ফেসবুকে শুরু হয় ‘হ্যাঁ-না’ পোস্ট দেওয়ার নতুন ট্রেন্ড। অধিকাংশ পোস্টেই কেন এই ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। ফলে অনেক সাধারণ ব্যবহারকারী বিভ্রান্ত হচ্ছেন—এর পেছনের কারণ কী, কেনই বা এই প্রচারণা?

মূলত, চলমান গণভোট প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিনটি রাজনৈতিক দলের অবস্থানই গণভোট ইস্যুতে ভিন্ন।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ দিয়েছে, তা নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক।

বিএনপি বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী চায় নভেম্বরে গণভোট হোক। এনসিপি নির্দিষ্ট সময় না জানালেও নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি তুলেছে। ফলে জামায়াত ও এনসিপির দাবি কিছুটা মিল থাকলেও বিএনপি তাদের সঙ্গে একমত নয়।

এই ভিন্নমতই প্রতিফলিত হয়েছে ফেসবুকে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ পোস্টের মাধ্যমে।
একদিকে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা ‘না’ পোস্ট দিচ্ছেন, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি-সমর্থকরা ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় যুক্ত হচ্ছেন।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নিজের প্রোফাইলে ‘না’ পোস্ট দিয়েছেন। বিপরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড পেজ থেকে ‘হ্যাঁ’ লিখে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

এরই মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা হস্তান্তর করেছে কমিশন। কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সবমিলিয়ে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘হ্যাঁ-না’ পোস্ট এখন নতুন এক রাজনৈতিক প্রতীক—যা গণভোট ইস্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে তীব্র বিতর্ক ও আগ্রহ।