শারদীয় দুর্গাপূজা ১৪৩২ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাঠানো উপহার স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতাদের হাতে তুলে দেন অতিথিরা। সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে এসময় নেতাকর্মীরা সবার গলায় জাতীয় পতাকা পরিয়ে দেন। পূজা উদযাপনে প্রতিটি মন্দির কমিটির পাশে দাঁড়াতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার মোট ২১টি মন্দিরে নগদ অর্থও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা আহ্বায়ক সুরেশ কুমার আগরওলা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসবকে ঘিরে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই বাংলাদেশি, এটাই আমাদের পরিচয়। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য দিয়ে বিভক্ত হওয়া উচিত নয়। সমাজ ও দেশের স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এবারের আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে।”
গত বছরের উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে শরীফুজ্জামান জানান, এ বছরও তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মন্দির পরিদর্শন করবেন। কোন মন্দির সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, সজ্জা ও আপ্যায়নের মাধ্যমে উৎসবকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারবে, সেই মন্দিরকে পুরস্কৃত করা হবে। তার ভাষায়, “এটি শুধু উৎসবের মান বাড়াবে না, বরং প্রতিটি মন্দিরকে অনুপ্রাণিত করবে সেরা আয়োজনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু রাজনৈতিক কর্মী নই, আমরা এ জেলার সন্তান। তাই এই জেলার যেকোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করা আমাদের দায়িত্ব। তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেওয়া উপহার সম্প্রীতির প্রতীক। তিনি সবসময় চান, ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে কোনো বৈষম্য বা অশান্তি না হয়ে বরং জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সিংহ রায় এবং জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জেলা আহ্বায়ক উৎপল কুমার বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, গৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার পাল, পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সদস্য পবিত্র কুমার আগরওয়ালা ও পলাশ কুমার সাহা, জেলা দোকান মালিক সমিতির সদস্য সচিব সুমন পারভেজ খান, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহাবুল হক মহাবুব, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি খন্দকার আরিফ, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাজেদুল আলম মেহেদী এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য শাহারু আহমেদ।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















