চুয়াডাঙ্গার উপজেলার পেয়ারাতলা গোরস্থান মাঠ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক চাষির ড্রাগন ফলের বাগানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাগানের প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০টি গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি মো. রিপন মুন্সির দাবি, তার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাতের যে কোন সময় এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. রিপন মুন্সি পেয়ারাতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি জানান, দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিশ্রম ও যত্নে গড়ে তোলা তার ড্রাগন বাগান এক রাতেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
বাগানের কর্মচারী মতিন বলেন, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে বাগানে এসে দেখি, প্রায় ১২-১৩ কাঠা জমির সব গাছ গোড়া থেকে কাটা। পুরো বাগান ধ্বংস হয়ে গেছে।
আরেক কর্মচারীর দাবি, ঘটনার কয়েক দিন আগে পেয়ারাতলা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুকের ছেলে সাব্বির তাকে হুমকি দিয়েছিল। তিনি বলেন, সাব্বির বলেছিল, রিপন মুন্সি তার মামাকে আটকে রেখেছে, খুব দ্রুতই এর ফল পাবে।

এ বিষয়ে রিপন মুন্সি বলেন, সাব্বিরের মামা, বাঁকা গ্রামের মাঠপাড়ার শহিদুল দেওয়ানের ছেলে নাজমুলকে কয়েক দিন আগে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত ঘটনায় আটক করা হয়েছিল। পরে তার পরিবার জামিনে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার বাগান কেটে নষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফলের বাগান করেছি। এখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। এই বাগানের ওপর অনেক পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমও এক রাতে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় তিনি জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেয়ারাতলা এলাকায় কয়েকশো বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। এমন ঘটনায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এএইচ
জীবননগর প্রতিনিধি 























