০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দামুড়হুদার রঞ্জু হত্যার রহস্য উদঘাটন

ছাত্রীর মায়ের অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁস করায় হত্যা করা হয়

Ada. Munna Telecom1

আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বদনপুর গ্রামের (ঘোলার বাগান) ভুট্টা ক্ষেত থেকে রঞ্জুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

নিহত রঞ্জু বদনপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। তার স্ত্রীর এক মাসের গর্ভবতী বলে জানিয়েছে পুলিশ। রঞ্জু কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশি ছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, বদনপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবির (৪১) ও একই গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ সুলতানা (২৭)।

ঘটনার পর দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। এরপরই বিভিন্ন সুত্র ধরে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে হুমায়ুন কবিরকে থানা হেফাজতে নেয়। পরে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

আরও পড়ুন

এদিকে ঘটনার পরদিন নিহত রঞ্জুর পরি পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই মামলায় হুমায়ুন কবির ও শাহানাজ সুলতানাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, রঞ্জু এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন৷ এরই মধ্যে বুঝতে পারেন মিজানুরের স্ত্রী অর্থাৎ ছাত্রীর মা শাহানাজ সুলতানার সঙ্গে এলাকার হুমায়ুন কবিরের পরকীয়ার সম্পর্ক চলছে৷ বিশেষ কায়দায় শাহানাজ ও হুমায়ুন কবিরের মধ্যে কখন কি কথা হয়, সে বিষয়টি রঞ্জু জেনে যেত। তাদের মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টি শাহানাজের স্বামী মিজানুর রহমান স্থানীয় লোকজনকে জানায়।

পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক হুমায়ুন কবির জানান, হত্যার ৫-৬ দিন পূর্বে রাতে শাহানাজ আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে যে, রঞ্জু আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করে রাখছে। তাকে মেরে ফেলতে হবে, আমি বলি ঠিক আছে, মেরে ফেলব। সে আরও বলে মারতে পারলে, আমার সাথে কথা বলবা, না পারলে কথা বলবা না। উক্ত কারণে আমি রঞ্জুকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার দুই-একদিন আগে আমি রঞ্জুকে বলি, আমি আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেব। তখন রঞ্জু বলে যে, আমিও আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেব। সে মোতাবেক রোববার সকাল ৯টার দিকে আমি আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দিতে যাই এবং রঞ্জু’ও তার জমিতে পানি দেওয়ার জন্য আসে। আমার জমিতে পানি দেওয়া শেষে বেলা ১২ টার দিকে রঞ্জু তার জমিতে পানি দেওয়া শুরু করে। এ সময় আমি রঞ্জুর পিছনে পিছনে ভূট্টা ক্ষেতের ভিতরে যেয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পিছন থেকে কোদাল দিয়ে রঞ্জুর মাথার বাম পার্শ্বে স্বজোরে আঘাত করলে রঞ্জু কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে আমি রঞ্জুকে দুই’টি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে কোদাল ক্যানেলের মধ্যে রেখে বাড়ীতে চলে আসে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামী হুমায়ুন কবির এ হতার ঘটনা বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

নিহত রঞ্জুর বাবা আজিজুর রহমান জানান, আমার ছেলে নিজেই কৃষি কাজ করতেন। আমার ছেলের সঙ্গে
কারোর কোন শক্রতা নেই। রোববার ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করছিল ছেলে। দুপুরে ছেলের জন্য খাবার নিয়ে মাঠে গিয়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সন্ধ্যায় মাগরিবের পরেও বাড়ি না ফেরায় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মাঠে খোঁজাখুঁজির সময় ছেলের কোপানো ক্ষত-বিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

নিহত রনজুর পিতা আজিজুল রহমান আরও বলেন, ‘ ছেলের জন্য নিয়ে যাওয়া ভাত খাওয়াতে পারলাম না। জীবিত অবস্থায় শেষ দেখাটাও দেখতে পেলাম না। এতই অভাগা বাবা আমি। কখনো ভাবতেই পারিনি আমার ছেলেকে এভাবে কে বা কারা হত্যা করবে। আমি এবং আমার ছেলের কারো সাথে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাহলে কেন এমন হলো। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

দামুড়হুদার রঞ্জু হত্যার রহস্য উদঘাটন

ছাত্রীর মায়ের অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁস করায় হত্যা করা হয়

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বদনপুর গ্রামের (ঘোলার বাগান) ভুট্টা ক্ষেত থেকে রঞ্জুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

নিহত রঞ্জু বদনপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। তার স্ত্রীর এক মাসের গর্ভবতী বলে জানিয়েছে পুলিশ। রঞ্জু কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশি ছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, বদনপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবির (৪১) ও একই গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ সুলতানা (২৭)।

ঘটনার পর দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। এরপরই বিভিন্ন সুত্র ধরে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে হুমায়ুন কবিরকে থানা হেফাজতে নেয়। পরে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

আরও পড়ুন

এদিকে ঘটনার পরদিন নিহত রঞ্জুর পরি পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই মামলায় হুমায়ুন কবির ও শাহানাজ সুলতানাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, রঞ্জু এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন৷ এরই মধ্যে বুঝতে পারেন মিজানুরের স্ত্রী অর্থাৎ ছাত্রীর মা শাহানাজ সুলতানার সঙ্গে এলাকার হুমায়ুন কবিরের পরকীয়ার সম্পর্ক চলছে৷ বিশেষ কায়দায় শাহানাজ ও হুমায়ুন কবিরের মধ্যে কখন কি কথা হয়, সে বিষয়টি রঞ্জু জেনে যেত। তাদের মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টি শাহানাজের স্বামী মিজানুর রহমান স্থানীয় লোকজনকে জানায়।

পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক হুমায়ুন কবির জানান, হত্যার ৫-৬ দিন পূর্বে রাতে শাহানাজ আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে যে, রঞ্জু আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করে রাখছে। তাকে মেরে ফেলতে হবে, আমি বলি ঠিক আছে, মেরে ফেলব। সে আরও বলে মারতে পারলে, আমার সাথে কথা বলবা, না পারলে কথা বলবা না। উক্ত কারণে আমি রঞ্জুকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার দুই-একদিন আগে আমি রঞ্জুকে বলি, আমি আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেব। তখন রঞ্জু বলে যে, আমিও আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেব। সে মোতাবেক রোববার সকাল ৯টার দিকে আমি আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দিতে যাই এবং রঞ্জু’ও তার জমিতে পানি দেওয়ার জন্য আসে। আমার জমিতে পানি দেওয়া শেষে বেলা ১২ টার দিকে রঞ্জু তার জমিতে পানি দেওয়া শুরু করে। এ সময় আমি রঞ্জুর পিছনে পিছনে ভূট্টা ক্ষেতের ভিতরে যেয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পিছন থেকে কোদাল দিয়ে রঞ্জুর মাথার বাম পার্শ্বে স্বজোরে আঘাত করলে রঞ্জু কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে আমি রঞ্জুকে দুই’টি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে কোদাল ক্যানেলের মধ্যে রেখে বাড়ীতে চলে আসে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামী হুমায়ুন কবির এ হতার ঘটনা বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

নিহত রঞ্জুর বাবা আজিজুর রহমান জানান, আমার ছেলে নিজেই কৃষি কাজ করতেন। আমার ছেলের সঙ্গে
কারোর কোন শক্রতা নেই। রোববার ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করছিল ছেলে। দুপুরে ছেলের জন্য খাবার নিয়ে মাঠে গিয়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সন্ধ্যায় মাগরিবের পরেও বাড়ি না ফেরায় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মাঠে খোঁজাখুঁজির সময় ছেলের কোপানো ক্ষত-বিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

নিহত রনজুর পিতা আজিজুল রহমান আরও বলেন, ‘ ছেলের জন্য নিয়ে যাওয়া ভাত খাওয়াতে পারলাম না। জীবিত অবস্থায় শেষ দেখাটাও দেখতে পেলাম না। এতই অভাগা বাবা আমি। কখনো ভাবতেই পারিনি আমার ছেলেকে এভাবে কে বা কারা হত্যা করবে। আমি এবং আমার ছেলের কারো সাথে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাহলে কেন এমন হলো। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’