১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার গরু থানায় লালন-পালন, জন্ম দিল বাছুর

নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে এক গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫টি গরুর লালন-পালন হচ্ছে থানায়। প্রায় ১ মাস যাবৎ একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করছেন থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল। সম্প্রতি একটি গরু থেকে এঁড়ে বাছুরের জন্ম হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

প্রকৃত মালিককে না পাওয়ার শর্তে আদালত থেকে নিলামের আদেশ পাওয়ার পর নিয়মমাফিক নিলামের মাধ্যমে গরুগুলো বিক্রি করা হবে বলে জানান ওসি।

থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, গত জুলাই মাসে জেলার রাণীনগর, আত্রাই বদলগাছি, মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সবগুলো ডাকাতির ঘটনা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে প্রথমত একজন কুখ্যাত গরুর ডাকাতকে শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর নওগাঁ জেলার আসলামকে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে আসলামের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের অসিতের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে অসিতকে আটক করা হয়। পরে অসিতের গোয়ালঘর থেকে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। গরুগুলোর মধ্যে একটি গরু ছিল সন্তান সম্ভবা। এরপর উদ্ধার হওয়া ওই গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গরুগুলোকে থানা প্রাঙ্গনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করা হচ্ছে। সম্প্রতি একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে সবগুলো গরুই সুস্থ্য ও ভালো আছে। নিয়মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যদি উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া না যায় তাহলে আশা করা যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে আদালত থেকে গরুগুলোর প্রকাশ্যে নিলামের আদেশ পাওয়া যাবে। আর গরুগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হলে সেখান থেকে গরুগুলোর দেখভালের যাবতীয় খরচ গ্রহণ করা হবে।

সুত্র : ঢাকা পোস্ট

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যায় স্ত্রী, আর কখনোই ফিরবেনা সেই জামাল উদ্দিন

চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার গরু থানায় লালন-পালন, জন্ম দিল বাছুর

প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে এক গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫টি গরুর লালন-পালন হচ্ছে থানায়। প্রায় ১ মাস যাবৎ একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করছেন থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল। সম্প্রতি একটি গরু থেকে এঁড়ে বাছুরের জন্ম হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

প্রকৃত মালিককে না পাওয়ার শর্তে আদালত থেকে নিলামের আদেশ পাওয়ার পর নিয়মমাফিক নিলামের মাধ্যমে গরুগুলো বিক্রি করা হবে বলে জানান ওসি।

থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, গত জুলাই মাসে জেলার রাণীনগর, আত্রাই বদলগাছি, মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সবগুলো ডাকাতির ঘটনা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে প্রথমত একজন কুখ্যাত গরুর ডাকাতকে শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর নওগাঁ জেলার আসলামকে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে আসলামের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের অসিতের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে অসিতকে আটক করা হয়। পরে অসিতের গোয়ালঘর থেকে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। গরুগুলোর মধ্যে একটি গরু ছিল সন্তান সম্ভবা। এরপর উদ্ধার হওয়া ওই গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গরুগুলোকে থানা প্রাঙ্গনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করা হচ্ছে। সম্প্রতি একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে সবগুলো গরুই সুস্থ্য ও ভালো আছে। নিয়মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যদি উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া না যায় তাহলে আশা করা যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে আদালত থেকে গরুগুলোর প্রকাশ্যে নিলামের আদেশ পাওয়া যাবে। আর গরুগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হলে সেখান থেকে গরুগুলোর দেখভালের যাবতীয় খরচ গ্রহণ করা হবে।

সুত্র : ঢাকা পোস্ট