চুয়াডাঙ্গায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে আকাশ (২১) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জের বোয়ালিয়া মাদ্রাসাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মরিয়ম খাতুন (১৮) বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত আকাশ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সাহেবনগর স্কুলপাড়ার বাবু মিয়ার ছেলে।
মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতেন আকাশ। এ নিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে নির্যাতনও করা হতো।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হাসুয়া নিয়ে মরিয়মের মায়ের বাড়িতে হাজির হন আকাশ। একপর্যায়ে তিনি মরিয়মের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মরিয়মের ডান হাতের পাঁচটি আঙুল কেটে যায়। এ ছাড়া তাঁর মাথা ও বাম হাতেও কোপ লাগে। মরিয়মের চিৎকার শুনে তাঁর মা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আকাশ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহত মরিয়মকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে মরিয়মের মাথা ও দুই হাতে গভীর জখম হয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মরিয়মের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হামলার পরও থামেননি আকাশ। মুঠোফোনে তাঁদের জবাই করে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন তিনি। এতে আহত গৃহবধূর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে যৌতুকের দাবিতে নাকি অন্য কোন ঘটনা নিয়ে স্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে তা যাছাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের তদন্তেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেছে কি না, তা জানতে রেডিও চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) রাকিবুল ইসলামের সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 


















