০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টা ক্ষেত নষ্টের অজুহাতে বিষ প্রয়োগে একাধিক বন্যপ্রাণী হত্যা

চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে শেয়াল, গন্ধগোকুল, বেজী, পোষা কুকুরসহ বহু বন্যপ্রাণীকে হত্যা করেছেন ফারুক হোসেন নামের এক কৃষক।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ানের দীননাথপুর গ্রামের নড়িতলামাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, এ ঘটনায় রোববার রাতে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত সংরক্ষক বিভাগের ফরেস্টগার্ড রাসেল মিয়া বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের কর্মকর্তা রাকিব উদ্দিন জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের মসজিদপাড়ার নবীছদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে দীননাথপুর গ্রামের নড়িতলামাঠে বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। এবার তিনি জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। এই মাঠে বণ্যপ্রাণীর অবাধ চলাচল রয়েছে। তার ভুট্টা ক্ষেত দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী চলাচল করে। প্রাণী গুলো ফসল নষ্ট করছে এমন কথা চিন্তা করে ক্ষিপ্ত হয়ে খাবারের ( প্রাণির পেটের অংশ-ভুড়ি) সাথে নিষিদ্ধ ফুরাডন বিষ দিয়ে রাখে মাঠের বিভিন্ন স্থানে। বেশ কিছু দিন ধরে বণ্যপ্রাণী গুলো খাবার খেয়ে মারা যেতে থাকে। একেএকে মারা যায় শেয়াল, গন্ধগোকুল, বেজী, পোষা কুকুরসহ বহু বন্যপ্রাণী।এরমধ্যে ৫-৭টি শেয়াল, একটি গন্ধগোকুল, একটি বেজি, একটি পোষা কুকুরসহ আরও বিভিন্ন ধরনের প্রাণী রয়েছে।

অভিযুক্ত কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, দিন রাত খেটে পরিশ্রম করে ফসল ফলায়। আর আমার জমির ফসল নষ্ট করে বিভিন্ন প্রাণী। এ কারণে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত সংরক্ষক বিভাগের ফরেস্টগার্ড রাসেল মিয়া নামের একজন বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। বন বিভাগ সহায়তা চাইলে একটি টিম পাঠানো হবে। প্রাণী হত্যা করা অপরাধ। কেউ অন্যায় ভাবে এমন ঘটনা ঘটাতে পারবে না।

পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বখতিয়ার হামিদ বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারি বিষ প্রয়োগ করে প্রাণী গুলো হত্যা করা হয়েছে। মাটি চাপা দিয়েছে প্রাণী গুলো। প্রাণী হত্যা বণ্যপ্রাণী আইনে অপরাধ। আমরা চাই অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

খুলনা বণ্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বণ্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্য বলেন, আমরা রবিবার দুপুরে খবর পেয়ে একটি টিম নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পরিদর্শন করে আমরা প্রায় ৮-১০ টি সংরক্ষিত প্রাণীর মৃতদেহ ঘটনাস্থলে পাই। তারই প্রেক্ষিতে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত আকারে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছি।

তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী আমার অফিসের একজন ফরেস্টগার্ডকে বাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগটি করা হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর, সাধারণ সম্পাদক জিসান আহমেদ

চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টা ক্ষেত নষ্টের অজুহাতে বিষ প্রয়োগে একাধিক বন্যপ্রাণী হত্যা

প্রকাশের সময় : ১১:৩৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে শেয়াল, গন্ধগোকুল, বেজী, পোষা কুকুরসহ বহু বন্যপ্রাণীকে হত্যা করেছেন ফারুক হোসেন নামের এক কৃষক।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ানের দীননাথপুর গ্রামের নড়িতলামাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, এ ঘটনায় রোববার রাতে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত সংরক্ষক বিভাগের ফরেস্টগার্ড রাসেল মিয়া বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের কর্মকর্তা রাকিব উদ্দিন জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের মসজিদপাড়ার নবীছদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে দীননাথপুর গ্রামের নড়িতলামাঠে বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। এবার তিনি জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। এই মাঠে বণ্যপ্রাণীর অবাধ চলাচল রয়েছে। তার ভুট্টা ক্ষেত দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী চলাচল করে। প্রাণী গুলো ফসল নষ্ট করছে এমন কথা চিন্তা করে ক্ষিপ্ত হয়ে খাবারের ( প্রাণির পেটের অংশ-ভুড়ি) সাথে নিষিদ্ধ ফুরাডন বিষ দিয়ে রাখে মাঠের বিভিন্ন স্থানে। বেশ কিছু দিন ধরে বণ্যপ্রাণী গুলো খাবার খেয়ে মারা যেতে থাকে। একেএকে মারা যায় শেয়াল, গন্ধগোকুল, বেজী, পোষা কুকুরসহ বহু বন্যপ্রাণী।এরমধ্যে ৫-৭টি শেয়াল, একটি গন্ধগোকুল, একটি বেজি, একটি পোষা কুকুরসহ আরও বিভিন্ন ধরনের প্রাণী রয়েছে।

অভিযুক্ত কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, দিন রাত খেটে পরিশ্রম করে ফসল ফলায়। আর আমার জমির ফসল নষ্ট করে বিভিন্ন প্রাণী। এ কারণে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত সংরক্ষক বিভাগের ফরেস্টগার্ড রাসেল মিয়া নামের একজন বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। বন বিভাগ সহায়তা চাইলে একটি টিম পাঠানো হবে। প্রাণী হত্যা করা অপরাধ। কেউ অন্যায় ভাবে এমন ঘটনা ঘটাতে পারবে না।

পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বখতিয়ার হামিদ বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারি বিষ প্রয়োগ করে প্রাণী গুলো হত্যা করা হয়েছে। মাটি চাপা দিয়েছে প্রাণী গুলো। প্রাণী হত্যা বণ্যপ্রাণী আইনে অপরাধ। আমরা চাই অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

খুলনা বণ্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বণ্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্য বলেন, আমরা রবিবার দুপুরে খবর পেয়ে একটি টিম নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পরিদর্শন করে আমরা প্রায় ৮-১০ টি সংরক্ষিত প্রাণীর মৃতদেহ ঘটনাস্থলে পাই। তারই প্রেক্ষিতে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত আকারে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছি।

তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী আমার অফিসের একজন ফরেস্টগার্ডকে বাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগটি করা হয়।