ঈদকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাংককেন্দ্রিক আন্তঃজেলা নারী প্রতারক চক্র। ঋণের টাকা উত্তোলন করে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর এক গৃহবধূর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৭০ হাজার টাকা কৌশলে চুরি করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় চক্রের এক সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও বাকি সদস্যরা পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২০ মে) দুপুরে) আলমডাঙ্গা শহরের সোনালী ব্যাংক এলাকায়। ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার (৩০) উপজেলার খাসবাগুন্দা গ্রামের মিটুল হোসেনের স্ত্রী।
জানা গেছে, নাসরিন আক্তার আলমডাঙ্গা পল্লী সঞ্চয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ঋণের ৭০ হাজার টাকার চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করেন। পরে টাকা ভ্যানিটি ব্যাগে রেখে ব্যাংক থেকে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ৫ সদস্যের একটি নারী প্রতারকচক্র তাকে ঘিরে ধরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে ধাক্কাধাক্কি ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। একপর্যায়ে নাসরিন আক্তার বুঝে ওঠার আগেই তার ব্যাগ থেকে ৭০ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রতারকরা।
এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে তার স্বামী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে চক্রের এক নারী সদস্যকে আটক করেন। তবে বাকি চার সদস্য মুহূর্তের মধ্যেই পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রতারক দলের সদস্যদের মুখ হিজাবে ঢাকা ছিল।
খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক নারীকে থানায় নিয়ে যায়। পরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালানো হলেও পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
আটক নারী প্রতারকের নাম পলি খাতুন (৪০)। তিনি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার চরপাঁচুরিয়া গ্রামের মাহাবুর রহমানের স্ত্রী। বর্তমানে কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনী এলাকায় বসবাস করছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
ঘটনার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার বলেন, “মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে আগের লোন শোধ করে আবার নতুন করে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকাও নিয়ে গেল। এখন কিভাবে মানুষের টাকা শোধ করবো বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদকে ঘিরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আশপাশে প্রতারক ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে সাধারণ গ্রাহকদের টার্গেট করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, এর আগেও সোনালী ব্যাংক এলাকায় একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। আলমডাঙ্গার অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় সোনালী ব্যাংকে গ্রাহকের চাপ বেশি থাকায় অপরাধচক্রও এ এলাকাকে টার্গেট করছে। তাদের মতে, ব্যাংকটিতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি কাভারেজ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় চুরির মামলা দায়ের করেছেন।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, আটক মহিলাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। একইসঙ্গে পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুত্র: দৈনিক মাথাভাঙ্গা
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 






















