চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মসলাজাত ফসলের উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামের মাঠপাড়ায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দানাজাতীয় খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও মসলাজাতীয় খাদ্যে এখনো অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। প্রতিবছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মসলা আমদানি করতে হয়। তবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে বিভিন্ন মসলার উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব জাতের আবাদ বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালে দেশে প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টন মসলা আমদানি করতে হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে মসলার আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি অনেকটা কমেছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে দেশ মসলাতেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।”

মাঠ দিবসে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “পেঁয়াজ এখন শুধু মসলা নয়, সবজি হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে জীবননগরের অনেক কৃষক সফলতা পেয়েছেন। এছাড়া ফল বাগানের ফাঁকা জায়গায় বিভিন্ন মসলার চাষ করে কৃষকরা পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাবেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিঠু চন্দ্র অধিকারী।
এসময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামাউল হোসেন, ইয়াছিন আলী, মোর্শেদ হোসেন, নুরুজ্জামান ও ইসমোত আরা সুলতানাসহ কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার উথলী, আন্দুলবাড়িয়া, কেডিকে ও মনোহরপুর ইউনিয়নের প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। মাঠ দিবসে কৃষকদের মসলাজাত ফসলের আধুনিক চাষাবাদ, উন্নত জাত নির্বাচন ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এএইচ
জীবননগর অফিস 



















