দীর্ঘদিনের বিভক্তি ও পারস্পরিক দূরত্ব কাটিয়ে অবশেষে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির দ্বিধাবিভক্ত দুই গ্রুপ। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বাধীন দুই ধারার নেতা-কর্মীরা আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই—আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা এই ঐক্যের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে আলমডাঙ্গার লায়লা কনভেনশন সেন্টারে দুই গ্রুপের যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সভায় অংশ নেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘৫ আগস্ট না হলে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে এ ধরনের কর্মসূচি করতে পারতাম না। নির্ভয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ ছিল না। আজ সেই ভয়ের পরিবেশ নেই—এটাই আমাদের বড় অর্জন।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী মত দমনে অপপ্রচারের সংস্কৃতি চালু করেছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক সময় সেই সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারিনি। এখন সময় এসেছে এসব চর্চা পরিহার করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার।’
ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজ এখানে কোনো গ্রুপ নেই। শরীফুজ্জামান শরীফ গ্রুপ বা অন্য কোনো গ্রুপ—এসব বিভাজন আপনারাই আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। বাস্তবে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।’ তিনি স্বীকার করেন, অতীতে গঠিত কিছু কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি এবং ভয়ের পরিবেশের কারণে অনেক যোগ্য নেতা তখন সামনে আসতে পারেননি।

নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের চাওয়া-পাওয়া অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে বলছি—এই বিষয়গুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমরা যারা শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সৈনিক, তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। সেই নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হলে আমাদের নিজেদের ভেতরের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত মতভেদ নয়, দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশাই হতে হবে আমাদের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।’
সভাপতির বক্তব্যে শহিদুল কাউনাইন টিলু বলেন, ‘আজ আমাদের মধ্যে আর কোনো বিভেদ নেই। আমরা সবাই একই আদর্শের সৈনিক। সামনে আমাদের একটাই লক্ষ্য—ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা।’
সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা যুবদল নেতা মাগরিবুর রহমান মাগরীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন বাড়াদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ।

সভায় আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন। তৃণমূলের নেতারা তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক পরামর্শ তুলে ধরেন। মনোযোগ দিয়ে সেসব বক্তব্য শোনেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
দীর্ঘদিনের বিভক্তি কাটিয়ে এই সমঝোতা সভাকে আলমডাঙ্গা বিএনপির রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন নেতা-কর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা—এই ঐক্য শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে আগামী দিনের রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 




























