০৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীননাথপুরে কমলা দোয়ায় অবৈধভাবে সরকারি সার প্রয়োগ ও কৃত্রিম সেচের প্রতিবাদে মানববন্ধন

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ‘কমলা দোয়া’তে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সার প্রয়োগ, কৃত্রিম সেচ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন তিন গ্রামের কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টায় দীননাথপুর কমলা দোয়ার পাড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে দীননাথপুর, গাইদঘাট ও চাঁদপুর গ্রামের শতাধিক কৃষক, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত সার পান না। অথচ কমলা দোয়ায় মাছ চাষের নামে শতাধিক বস্তা সার ব্যবহার করা হয়েছে, যা শুধু অনিয়মই নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃষক আফান উদ্দিন বলেন, “আমরা সাধারণ কৃষক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত সার পাই না। অথচ একটি দোয়ায় একসঙ্গে প্রায় ১৫০ বস্তা সার প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

স্থানীয় কৃষক মনা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বাড়িঘর কমলা দোয়ার পাশে। আগে কখনো জমি বা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম সেচের কারণে পানির চাপ বেড়ে রাস্তা, জমি ও ঘরবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা আজিজ বলেন, “মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কমলা দোয়ায় বিপুল পরিমাণ সার প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে জলাশয়ের পানি দূষিত হয়েছে এবং আশপাশের পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”

অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক জুয়েল বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সার জব্দ করেছেন, এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে শুধুমাত্র সার জব্দ করলেই হবে না, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে।”

মানববন্ধনে শ্রমিকদল নেতা লিটন মিয়া বলেন, “আমরা আইন ও প্রশাসনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু আমাদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিন গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেলাল উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আশরাফুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, সাব্বির আহমেদ ফয়েজ, বেলাল হুসাইন, মিলন, সাজু আহমেদ, আবির হাসান, রুবেল আহমেদ, শামিম, ইখতিয়ার উদ্দিন, সাকিব আহমেদ, রিপন আহমেদ, নুর করিম, রায়হান উদ্দিন, মুন্না খান, হাসান আহমেদ, আরিফ আহমেদ, সোহেল মাহমুদ, আকবার আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক কৃষক।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা কমলা দোয়ায় সার প্রয়োগ, কৃত্রিম সেচ এবং পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় পাচারকালে ২৮০ কেজি সরকারি চাল-আটা জব্দ : জরিমানার পর সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

দীননাথপুরে কমলা দোয়ায় অবৈধভাবে সরকারি সার প্রয়োগ ও কৃত্রিম সেচের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশের সময় : ১০:৫৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ‘কমলা দোয়া’তে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সার প্রয়োগ, কৃত্রিম সেচ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন তিন গ্রামের কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টায় দীননাথপুর কমলা দোয়ার পাড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে দীননাথপুর, গাইদঘাট ও চাঁদপুর গ্রামের শতাধিক কৃষক, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত সার পান না। অথচ কমলা দোয়ায় মাছ চাষের নামে শতাধিক বস্তা সার ব্যবহার করা হয়েছে, যা শুধু অনিয়মই নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃষক আফান উদ্দিন বলেন, “আমরা সাধারণ কৃষক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত সার পাই না। অথচ একটি দোয়ায় একসঙ্গে প্রায় ১৫০ বস্তা সার প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

স্থানীয় কৃষক মনা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বাড়িঘর কমলা দোয়ার পাশে। আগে কখনো জমি বা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম সেচের কারণে পানির চাপ বেড়ে রাস্তা, জমি ও ঘরবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা আজিজ বলেন, “মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কমলা দোয়ায় বিপুল পরিমাণ সার প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে জলাশয়ের পানি দূষিত হয়েছে এবং আশপাশের পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”

অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক জুয়েল বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সার জব্দ করেছেন, এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে শুধুমাত্র সার জব্দ করলেই হবে না, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে।”

মানববন্ধনে শ্রমিকদল নেতা লিটন মিয়া বলেন, “আমরা আইন ও প্রশাসনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু আমাদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিন গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেলাল উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আশরাফুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, সাব্বির আহমেদ ফয়েজ, বেলাল হুসাইন, মিলন, সাজু আহমেদ, আবির হাসান, রুবেল আহমেদ, শামিম, ইখতিয়ার উদ্দিন, সাকিব আহমেদ, রিপন আহমেদ, নুর করিম, রায়হান উদ্দিন, মুন্না খান, হাসান আহমেদ, আরিফ আহমেদ, সোহেল মাহমুদ, আকবার আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক কৃষক।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা কমলা দোয়ায় সার প্রয়োগ, কৃত্রিম সেচ এবং পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।