০৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুরে তরুণদের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

  • সজিব উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ৪৫ Views
Ada. Munna Telecom1

বৈরী আবহাওয়া আর প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ঈদ-পরবর্তী আনন্দ উৎসবে মেতে উঠল চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুর গ্রাম। গ্রীষ্মের উজ্জ্বল সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাঁতার প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন ঘিরে প্রতিযোগী ও দর্শকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। করতালি আর উচ্ছ্বাসে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন উপস্থিত শত শত দর্শক।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আমেজ তখনও গ্রামজুড়ে বিরাজমান। সেই আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে দীননাথপুর যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এই সাঁতার প্রতিযোগিতার। গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে থাকে। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও মানুষ ছুটে আসেন প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা ‘ক’ গ্রুপ, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা ‘খ’ গ্রুপ এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা ‘গ’ গ্রুপে অংশ নেন। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রতিযোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ গ্রুপকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। মোট চারটি ইভেন্টে শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন গ্রুপের বিজয়ীদের পর্যায়ক্রমে রাইস কুকার, প্রেসার কুকার ও ফ্রাইপ্যান প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শক নাইম আহমেদ বলেন, “এত সুন্দর আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি প্রতিযোগিতা দেখতে পেলাম। অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। আমরা চাই প্রতিবছর এমন আয়োজন হোক।”

পাশের গ্রামের দর্শক স্বপ্না খাতুন বলেন, “এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি অংশ। এমন আয়োজন মানুষকে আনন্দ দেয় এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ায়। ভবিষ্যতেও যেন নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হয়, সেই প্রত্যাশা করছি।”

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কোরবনা মিয়া বলেন, “সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে আরও অনেক তরুণ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হবে।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে দীননাথপুর যুবসমাজের তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম সুজন বলেন, “ঈদের আনন্দকে সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আমরা এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আগামী বছরগুলোতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

দীননাথপুর যুবসমাজের অন্যতম উদ্যোক্তা মাসুদ রানা বলেন, “সাঁতার আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

দিনভর প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাঁতার প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনই নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়। ঈদের আনন্দের আবহে দীননাথপুরবাসীর কাছে এটি ছিল এক স্মরণীয় আয়োজন।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় পাচারকালে ২৮০ কেজি সরকারি চাল-আটা জব্দ : জরিমানার পর সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুরে তরুণদের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশের সময় : ০৭:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বৈরী আবহাওয়া আর প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ঈদ-পরবর্তী আনন্দ উৎসবে মেতে উঠল চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুর গ্রাম। গ্রীষ্মের উজ্জ্বল সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাঁতার প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন ঘিরে প্রতিযোগী ও দর্শকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। করতালি আর উচ্ছ্বাসে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন উপস্থিত শত শত দর্শক।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আমেজ তখনও গ্রামজুড়ে বিরাজমান। সেই আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে দীননাথপুর যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এই সাঁতার প্রতিযোগিতার। গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে থাকে। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও মানুষ ছুটে আসেন প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা ‘ক’ গ্রুপ, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা ‘খ’ গ্রুপ এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা ‘গ’ গ্রুপে অংশ নেন। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রতিযোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ গ্রুপকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। মোট চারটি ইভেন্টে শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন গ্রুপের বিজয়ীদের পর্যায়ক্রমে রাইস কুকার, প্রেসার কুকার ও ফ্রাইপ্যান প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শক নাইম আহমেদ বলেন, “এত সুন্দর আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি প্রতিযোগিতা দেখতে পেলাম। অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। আমরা চাই প্রতিবছর এমন আয়োজন হোক।”

পাশের গ্রামের দর্শক স্বপ্না খাতুন বলেন, “এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি অংশ। এমন আয়োজন মানুষকে আনন্দ দেয় এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ায়। ভবিষ্যতেও যেন নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হয়, সেই প্রত্যাশা করছি।”

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কোরবনা মিয়া বলেন, “সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে আরও অনেক তরুণ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হবে।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে দীননাথপুর যুবসমাজের তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম সুজন বলেন, “ঈদের আনন্দকে সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আমরা এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আগামী বছরগুলোতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

দীননাথপুর যুবসমাজের অন্যতম উদ্যোক্তা মাসুদ রানা বলেন, “সাঁতার আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

দিনভর প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাঁতার প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনই নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়। ঈদের আনন্দের আবহে দীননাথপুরবাসীর কাছে এটি ছিল এক স্মরণীয় আয়োজন।

এএইচ