১২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ভাষা সৈনিক শাহজাহানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দেশবরেণ্য শ্রমিক নেতা ও ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ শাহজাহানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের হলরুমে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদ ও আহত ভাই-বোনদের স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ শাহজাহান স্মৃতি সংসদের আয়োজনে প্রফেসর শেখ সেলিমের সঞ্চালনায় সভার সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ জোয়ার্দ্দার।

প্রধান অতিথি ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এস এম ইস্রাফিল, অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ তৌহিদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ।

স্বরণসভায় প্রধান অতিথি সাবেক অধ্যক্ষ ছিদ্দিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার সব অধিকার আন্দোলনে মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্ব ছিল উল্লেখ করার মত। শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাতাসহ ৫৪, ৬২, ৬৬, ও ৬৯,র গণ-আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এক নক্ষত্র ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান। বাংলার অধিকারহারা মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় তার মত উদারপন্থী ও সমাজতন্ত্র কায়েম করার স্বপ্ন দেখা নেতার বড়ই অভাব। আমরা তার মাগফেরাত কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আকসিজুল ইসলাম রতন, চুয়াডাঙ্গা ভাষানী পরিষদের আহবায়ক লিটু বিশ্বাস, প্রগতি লেখক সংঘের সম্পাদক কাজল মাহমুদ, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু নাসের, জে এস ডি নেতা লাবলুর রহমান, দ্রোহের কবি রিগান এসকেন্দার, জেএসডি নেতা গোলাম সরওয়ার প্রমূখ।

প্রসঙ্গত,
চুয়াডাঙ্গার খোদাদাদ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান ১৯৩৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাতুলালয় আলমডাঙ্গা উপজেলার রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম শুভতারা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহজাহান।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান। চুয়াডাঙ্গা ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তৎকালীন কথিত অভিজাত শ্রেণির বিরুদ্ধে এলাকার শোষিত বঞ্চিত মেহনতী মানুষকে সংগঠিত করেন। তিনিই প্রথম চুয়াডাঙ্গায় রিকশা শ্রমিক ও হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে তোলেন। সে সময় সামাজিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যেকোনো দুর্নীতি অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কয়েকজন প্রতিবাদী যুবক ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ শাহজাহান অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৮ সালে মোহাম্মদ শাহজাহান চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাবেক এমপি প্রখ্যাত এই শ্রমিক নেতা ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর শনিবার রাত ৯টায় ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

দামুড়হুদায় গাঁজা সেবনের দায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ২ হাজার

চুয়াডাঙ্গায় ভাষা সৈনিক শাহজাহানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা

প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দেশবরেণ্য শ্রমিক নেতা ও ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ শাহজাহানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের হলরুমে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদ ও আহত ভাই-বোনদের স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ শাহজাহান স্মৃতি সংসদের আয়োজনে প্রফেসর শেখ সেলিমের সঞ্চালনায় সভার সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ জোয়ার্দ্দার।

প্রধান অতিথি ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এস এম ইস্রাফিল, অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ তৌহিদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ।

স্বরণসভায় প্রধান অতিথি সাবেক অধ্যক্ষ ছিদ্দিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার সব অধিকার আন্দোলনে মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্ব ছিল উল্লেখ করার মত। শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাতাসহ ৫৪, ৬২, ৬৬, ও ৬৯,র গণ-আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এক নক্ষত্র ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান। বাংলার অধিকারহারা মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় তার মত উদারপন্থী ও সমাজতন্ত্র কায়েম করার স্বপ্ন দেখা নেতার বড়ই অভাব। আমরা তার মাগফেরাত কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আকসিজুল ইসলাম রতন, চুয়াডাঙ্গা ভাষানী পরিষদের আহবায়ক লিটু বিশ্বাস, প্রগতি লেখক সংঘের সম্পাদক কাজল মাহমুদ, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু নাসের, জে এস ডি নেতা লাবলুর রহমান, দ্রোহের কবি রিগান এসকেন্দার, জেএসডি নেতা গোলাম সরওয়ার প্রমূখ।

প্রসঙ্গত,
চুয়াডাঙ্গার খোদাদাদ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান ১৯৩৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাতুলালয় আলমডাঙ্গা উপজেলার রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম শুভতারা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহজাহান।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান। চুয়াডাঙ্গা ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তৎকালীন কথিত অভিজাত শ্রেণির বিরুদ্ধে এলাকার শোষিত বঞ্চিত মেহনতী মানুষকে সংগঠিত করেন। তিনিই প্রথম চুয়াডাঙ্গায় রিকশা শ্রমিক ও হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে তোলেন। সে সময় সামাজিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যেকোনো দুর্নীতি অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কয়েকজন প্রতিবাদী যুবক ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ শাহজাহান অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৮ সালে মোহাম্মদ শাহজাহান চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাবেক এমপি প্রখ্যাত এই শ্রমিক নেতা ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর শনিবার রাত ৯টায় ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান।