০২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে থানায় তদবীর করতে এসে জামায়াত-বিএনপির পাঁচ সমর্থক আটক

Ada. Munna Telecom1

কুষ্টিয়ার মিরপুরে থানা-পুলিশের হাতে রবিউল ইসলাম নামে আটক এক মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ সমর্থক। তাদেরকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১০টায় মিরপুর থানায় এই ঘটনা ঘটে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নওদা আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটক রবিউল ইসলাম ওই এলাকার মো. রমজানের ছেলে। হেফাজতে নেওয়া বিএনপি সমর্থকের নাম এনামুল হক। তিনি সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬নং ওয়ার্ড সদস্য। এছাড়া বাকি চার জামায়াত সমর্থক হলেন- উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম, একই এলাকার সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম।

মিরপুর উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমির রেজাউল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত আছি। আটককৃত চারজন জামায়াতে ইসলামীর নেতা বা কর্মী না তারা সমর্থক। আমাদের লিস্ট অনুযায়ী তাদের নাম কোন নেতা বা কর্মীর খাতায় নেই। তবে তারা সমর্থক। 

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের তদবির কখনোই করে না। আমি যেটুকু জানি যে মাদক কারবারি আটক হয়েছে তার বাড়ির পাশেই এই চারজনের বাড়ি। তারা ওই লোকের খোঁজ নিতে থানায় গেছিল।

মিরপুর উপজেলা সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আশা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মিরপুর থানা হেফাজতে থাকা সদরপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে নেই। তিনি বিএনপির একজন সমর্থক। বিএনপির বিভিন্ন মিছিল মিটিং প্রোগ্রামে তিনি উপস্থিত থাকেন। তার এই বিষয়টি দল সমর্থন করে না। এর দায় দল নেবে না।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, ৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারিকে আটক করে থানায় আনা হয়। থানায় আসার পরে তার নামে এজহার দাখিল করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার সময় আসামির পক্ষে তদবির করতে আসেন সদরপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক সুজন আলী, আলাউদ্দীন, শফিকুল ও সাইদুল। তাদের তদবির করতে বারবার নিষেধ করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করেন আসামিকে ছেড়ে দিতে বলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওসি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদবির সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার এই আসামিকে ছাড়াতে তদবির করছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা এখনো পুলিশ হেফাজতেই আছেন। 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় পাচারকালে ২৮০ কেজি সরকারি চাল-আটা জব্দ : জরিমানার পর সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে থানায় তদবীর করতে এসে জামায়াত-বিএনপির পাঁচ সমর্থক আটক

প্রকাশের সময় : ০২:০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ার মিরপুরে থানা-পুলিশের হাতে রবিউল ইসলাম নামে আটক এক মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ সমর্থক। তাদেরকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১০টায় মিরপুর থানায় এই ঘটনা ঘটে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নওদা আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটক রবিউল ইসলাম ওই এলাকার মো. রমজানের ছেলে। হেফাজতে নেওয়া বিএনপি সমর্থকের নাম এনামুল হক। তিনি সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬নং ওয়ার্ড সদস্য। এছাড়া বাকি চার জামায়াত সমর্থক হলেন- উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম, একই এলাকার সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম।

মিরপুর উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমির রেজাউল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত আছি। আটককৃত চারজন জামায়াতে ইসলামীর নেতা বা কর্মী না তারা সমর্থক। আমাদের লিস্ট অনুযায়ী তাদের নাম কোন নেতা বা কর্মীর খাতায় নেই। তবে তারা সমর্থক। 

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের তদবির কখনোই করে না। আমি যেটুকু জানি যে মাদক কারবারি আটক হয়েছে তার বাড়ির পাশেই এই চারজনের বাড়ি। তারা ওই লোকের খোঁজ নিতে থানায় গেছিল।

মিরপুর উপজেলা সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আশা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মিরপুর থানা হেফাজতে থাকা সদরপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে নেই। তিনি বিএনপির একজন সমর্থক। বিএনপির বিভিন্ন মিছিল মিটিং প্রোগ্রামে তিনি উপস্থিত থাকেন। তার এই বিষয়টি দল সমর্থন করে না। এর দায় দল নেবে না।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, ৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারিকে আটক করে থানায় আনা হয়। থানায় আসার পরে তার নামে এজহার দাখিল করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার সময় আসামির পক্ষে তদবির করতে আসেন সদরপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক সুজন আলী, আলাউদ্দীন, শফিকুল ও সাইদুল। তাদের তদবির করতে বারবার নিষেধ করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করেন আসামিকে ছেড়ে দিতে বলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওসি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদবির সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার এই আসামিকে ছাড়াতে তদবির করছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা এখনো পুলিশ হেফাজতেই আছেন।