চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল রোডে মেডিকেল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য একসঙ্গে রাখার দায়ে সানরাইজ মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সুমিত বড়ুয়াকে এ জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি আগামী ১০ দিনের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রঙভিত্তিক পৃথক বিনের ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন আল আজাদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিদর্শক নাইম হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সানরাইজ মেডিকেল সেন্টারে ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য একই বিনে রাখা হচ্ছিল। এ কারণে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(গ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাইম হোসেন প্রসিকিউশন দেন।
ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সূচ, রক্তমাখা তুলা, ব্যান্ডেজসহ বিভিন্ন সংক্রমণসৃষ্টিকারী উপাদান মেডিকেল বর্জ্যের অন্তর্ভুক্ত। এসব বর্জ্য সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশে গেলে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আশপাশের মানুষের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণের আশঙ্কাও থাকে। এ কারণে বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী পৃথক পাত্রে সেগুলো সংগ্রহ এবং নিরাপদ উপায়ে অপসারণ করা প্রয়োজন।
অভিযানকালে সানরাইজ মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে রঙভিত্তিক পৃথক বিন ব্যবহার করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, মেডিকেল বর্জ্যজনিত পরিবেশদূষণ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 


















