১২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলনে মাদক ছাড়ার অঙ্গীকারের কয়েক মাস পর আবারো মাদকসহ গ্রেপ্তার মা-মেয়ে

আলমডাঙ্গায় মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক মাদক মামলার আসামি মা-মেয়ে মিনি খাতুন ও মায়া খাতুন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন কলোনি এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই তাইজুল হক, এএসআই জামির আলীসহ পুলিশের একটি দল রেলস্টেশন কলোনি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিনি ও মায়া পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। পুলিশের দাবি, আটকের সময় তাদের কাছে থাকা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বালির স্তূপে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন তারা। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্তূপ থেকে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আলমডাঙ্গা শহরের স্টেশনপাড়া এলাকার মিনি খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। তার মেয়ে মায়া খাতুনের বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তারা ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মিনি ও মায়ার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রেও মাদক ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিনি খাতুনের মাদক ব্যবসায় অতিষ্ঠ হয়ে তার এক মা আত্মহত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মায়া খাতুনের স্বামী ওল্টু মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে সাতকপাট এলাকায় গুলিতে নিহত হন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে এসব ঘটনার সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয় আইনগতভাবে যাচাই সাপেক্ষ।

চলতি বছরের শুরুর দিকে একাধিক মামলার আসামি মিনি খাতুনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ড দেন।

পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পর মিনি খাতুন কথিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই ফের মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগের পরও ফের মা-মেয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবীদের অর্থের জোগান দিতে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আলমডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলনে মাদক ছাড়ার অঙ্গীকারের কয়েক মাস পর আবারো মাদকসহ গ্রেপ্তার মা-মেয়ে

আলমডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলনে মাদক ছাড়ার অঙ্গীকারের কয়েক মাস পর আবারো মাদকসহ গ্রেপ্তার মা-মেয়ে

প্রকাশের সময় : ১২:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

আলমডাঙ্গায় মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক মাদক মামলার আসামি মা-মেয়ে মিনি খাতুন ও মায়া খাতুন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন কলোনি এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই তাইজুল হক, এএসআই জামির আলীসহ পুলিশের একটি দল রেলস্টেশন কলোনি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিনি ও মায়া পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। পুলিশের দাবি, আটকের সময় তাদের কাছে থাকা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বালির স্তূপে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন তারা। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্তূপ থেকে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আলমডাঙ্গা শহরের স্টেশনপাড়া এলাকার মিনি খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। তার মেয়ে মায়া খাতুনের বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তারা ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মিনি ও মায়ার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রেও মাদক ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিনি খাতুনের মাদক ব্যবসায় অতিষ্ঠ হয়ে তার এক মা আত্মহত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মায়া খাতুনের স্বামী ওল্টু মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে সাতকপাট এলাকায় গুলিতে নিহত হন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে এসব ঘটনার সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয় আইনগতভাবে যাচাই সাপেক্ষ।

চলতি বছরের শুরুর দিকে একাধিক মামলার আসামি মিনি খাতুনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ড দেন।

পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পর মিনি খাতুন কথিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই ফের মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগের পরও ফের মা-মেয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবীদের অর্থের জোগান দিতে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।