০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ বছরের প্রেম, গোপনে বিয়ের দাবি

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে সরকারি চাকরিজীবীর বাড়িতে মাস্টার্স পড়ুয়া তরুণীর অবস্থান

Ada. Munna Telecom1

দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গোপনে বিয়ে করেছেন দাবি করে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক সরকারি চাকরিজীবীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন মাস্টার্স পড়ুয়া এক তরুণী। ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের পুরাতন পাঁচলিয়া গ্রামে ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার পুরাতন পাঁচলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করে জানান, প্রতিবেশী ওয়াদুদ হোসেনের ছেলের সঙ্গে তার দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পড়াশোনার সুবাদে কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে ২০২৩ সালে তারা পারিবারিকভাবে কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন। তাদের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিওও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তরুণীর ভাষ্য, বিয়ের পর বেশ কিছুদিন তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। তবে সম্প্রতি ওই যুবক সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তাদের বিয়ের বৈধ কাবিননামা রয়েছে এবং সেই আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি স্বীকৃতি চাইছেন। তবে স্থানীয়ভাবে কোনো সমাধান না হওয়ায় আপাতত তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে গেছেন।

অন্যদিকে, বিয়ের কাবিননামার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামজামি ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) ওয়াজেদ আলী। তিনি বলেন, “আমি ওই বিয়ে পড়াইনি। যে কাজীর নাম ব্যবহার করে কাবিননামাটি তৈরি করা হয়েছে, তিনি প্রায় ২৫ থেকে ২৬ বছর আগে মারা গেছেন। সে কারণে কাবিননামাটির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবকের বাবা ওয়াদুদ হোসেন বিয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ওই মেয়েকে বিয়ে করেনি। যে কাবিননামা দেখানো হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল ও মনগড়া। আমার ছেলের সরকারি চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে।”

এদিকে এক পক্ষ বিয়ের দাবি ও কাবিননামার বৈধতার কথা বললেও অন্য পক্ষ তা জাল বলে দাবি করায় ঘটনাটি জটিল আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনায় বিয়ের দাবির সত্যতা, কাবিননামার বৈধতা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় পাচারকালে ২৮০ কেজি সরকারি চাল-আটা জব্দ : জরিমানার পর সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

১১ বছরের প্রেম, গোপনে বিয়ের দাবি

চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে সরকারি চাকরিজীবীর বাড়িতে মাস্টার্স পড়ুয়া তরুণীর অবস্থান

প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গোপনে বিয়ে করেছেন দাবি করে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক সরকারি চাকরিজীবীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন মাস্টার্স পড়ুয়া এক তরুণী। ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের পুরাতন পাঁচলিয়া গ্রামে ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার পুরাতন পাঁচলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করে জানান, প্রতিবেশী ওয়াদুদ হোসেনের ছেলের সঙ্গে তার দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পড়াশোনার সুবাদে কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে ২০২৩ সালে তারা পারিবারিকভাবে কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন। তাদের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিওও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তরুণীর ভাষ্য, বিয়ের পর বেশ কিছুদিন তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। তবে সম্প্রতি ওই যুবক সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তাদের বিয়ের বৈধ কাবিননামা রয়েছে এবং সেই আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি স্বীকৃতি চাইছেন। তবে স্থানীয়ভাবে কোনো সমাধান না হওয়ায় আপাতত তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে গেছেন।

অন্যদিকে, বিয়ের কাবিননামার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামজামি ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) ওয়াজেদ আলী। তিনি বলেন, “আমি ওই বিয়ে পড়াইনি। যে কাজীর নাম ব্যবহার করে কাবিননামাটি তৈরি করা হয়েছে, তিনি প্রায় ২৫ থেকে ২৬ বছর আগে মারা গেছেন। সে কারণে কাবিননামাটির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবকের বাবা ওয়াদুদ হোসেন বিয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ওই মেয়েকে বিয়ে করেনি। যে কাবিননামা দেখানো হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল ও মনগড়া। আমার ছেলের সরকারি চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে।”

এদিকে এক পক্ষ বিয়ের দাবি ও কাবিননামার বৈধতার কথা বললেও অন্য পক্ষ তা জাল বলে দাবি করায় ঘটনাটি জটিল আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনায় বিয়ের দাবির সত্যতা, কাবিননামার বৈধতা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।