চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, ‘কোনো সুদখোর-নেশাখোর যেন কোনো মসজিদের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে না পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ইসলামি মূল্যবোধ ও ইমামতির জায়গা থেকে মানুষকে নামাজ পড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। যারা ইসলাম ও ইসলামের পক্ষে কথা বলবেন, মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন—এসবই ঈমানের অংশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শরীফুজ্জামান শরীফ।
এর আগে,কর্মসূচির শুরুতে সাহিত্য পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের কোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আজকের এই ওলামা দল ৪৭ বছর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন এই দলের কোনো হদিস ছিল না এবং পরিচালনা করার মতো লোকও ছিল না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর কৃষক দল, মহিলা দল, ওলামা দলসহ প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে সক্রিয় ও সচল করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ও ভাতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে যত মসজিদ আছে, বিশ্বের অন্য কোথাও এত মসজিদ নেই। এসব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ও ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় আরও দৃঢ় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কারণে আমরা সমাজ থেকে নিমজ্জিত হয়েছি, যে কারণে আপনাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং যে কারণে আমাদের ইসলামি মূল্যবোধ নষ্ট হয়েছে, সেসব বিষয়ে আপনারা শক্ত অবস্থানে থাকবেন। কোনো মসজিদ কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়েন, তাহলে তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার যোগ্য নন।’
ওলামা দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আজ আপনাদের একত্রিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো, আপনাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তা জনগণের মাঝে তুলে ধরা। আপনাদের মারামারি করার প্রয়োজন নেই। আপনারা কুরআন-হাদিসের আলোকে কথা বলছেন এবং বলবেন। আপনারা নিজ নিজ অবস্থানে থাকবেন এবং ইসলামের মূল্যবোধ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক সংকটের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘রাষ্ট্র ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানিত করার কথা বলেছে। কিন্তু আমরা সবকিছুর দাম বাড়ালেও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন বাড়াই না। তাদের বেতন ৫-৬ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পরিবার-পরিজনের কথা চিন্তা করে তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে চান।’
এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবনযাপনের আহ্বান জানান।
জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব হাফেজ মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, জেলা ওলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া স্বপন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, আলমডাঙ্গা উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মওলানা সাফি আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান সুমন, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন হাসান কাকন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম হাসান টুটুল এবং সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 

















