১০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পদযাত্রা আলোচনা সমাবেশ ও গণসঙ্গীত পরিবেশন

মাথাভাঙ্গা নদীর দখল-দূষণ রোধ, বাঁধ অপসারণ ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণের দাবি

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে ‘বিশ্ব নদী দিবস-২০২৪ এর অঙ্গীকার, আন্তঃসীমান্ত নদীতে বাংলাদেশের অধিকার’ স্লোগানে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সামাজিক সচেতনতায় গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়েছে।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) শহরের মাথাভাঙ্গা পুরাতন ব্রিজের ওপর এ কর্মসূচী পালন করে মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা), ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও নদী পরিব্রাজক দল।

এরআগে জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে জমায়েত হয় সংগঠনগুলোর সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শিল্পকলা একাডেমী চত্বর থেকে পদযাত্রা সহকারে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে শহরের পুরাতন মাথাভাঙ্গা ব্রিজের ওপর গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

আলোচনা সভা ও গণসঙ্গীতের মাধ্যমে ‘মাথাভাঙ্গা নদীর দখল-দূষণ রোধ, সকল বাঁধ অপসারণ এবং অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণের দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’র সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি কোরবানি আলী মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ, রিসো’র নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার প্রতিনিধি সাফফাতুল ইসলাম, সাহিত্য সংগঠন চর্চায়নের পরিচালক রিগান এস্কেন্দার প্রমুখ।

মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি বলেন, ‘মানুষের অসচেতনতার কারণে মরা পশুপাখি মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে বাড়ছে নদী দূষণ। জেলা শহরের বেশ কয়েকটি ড্রেনের মাধ্যমে নোংরা পানি নদীতে দেদারছে নামছে। এতে নদীর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ছে। নদীর তীরে অবৈধভাবে পানবরজসহ বিভিন্ন প্রকার চাষাবাদ করা হচ্ছে। মাটি খননের কারণে তা ধুয়ে নদীতে নেমে নাব্যতা নষ্ট করছে। অবাক হলেও সত্য যে, নদীর বুক থেকে বালু উত্তোলন করে উপকারের বদলে ক্ষতিই ডেকে আনা হচ্ছে। কিছু স্থানে রয়েছে কোমর। তীরে কারেন্ট জাল দিয়ে নদীর স্বাভাবিক স্রোতের প্রতিবন্ধকতায় শুধু সৃষ্টি করা হচ্ছে না, ক্ষতিকারক ওই জালের কারণে ছোট-বড় মাছের পোনা, রেনুও মারা পড়ছে। এসব থেকে পরিত্রাণে প্রশাসনের যেমন আশু পদক্ষেপ নিতে হবে, তেমন সর্বস্তরের সচেতনতা প্রয়োজন।’

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচলে এ অঞ্চলের জিব-বৈচিত্র রক্ষা পাবে। তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় ফিরে আসবে। এই নদী বাঁচলে জেলার সকল নদীকে বাঁচানো সম্ভব হবে। তাই, আমাদের মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাতে সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে মাথাভাঙ্গা নদীর গান পরিবেশন করে উদীচীর শিল্পী আদিল হোসেন, শেখ ফরিদ আহমেদ, মিলন অধিকারী, সাহাবুদ্দিন। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন শ্রীদাম রায় ও তন্ময় বসু। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ও রিসো’র কর্মীবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় দুই পাম্পে তেল নিয়ে টাকা না দিয়েই চম্পট, ৫ কিলোমিটার ধাওয়া করে দুজনকে আটক

পদযাত্রা আলোচনা সমাবেশ ও গণসঙ্গীত পরিবেশন

মাথাভাঙ্গা নদীর দখল-দূষণ রোধ, বাঁধ অপসারণ ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণের দাবি

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে ‘বিশ্ব নদী দিবস-২০২৪ এর অঙ্গীকার, আন্তঃসীমান্ত নদীতে বাংলাদেশের অধিকার’ স্লোগানে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সামাজিক সচেতনতায় গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়েছে।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) শহরের মাথাভাঙ্গা পুরাতন ব্রিজের ওপর এ কর্মসূচী পালন করে মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা), ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও নদী পরিব্রাজক দল।

এরআগে জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে জমায়েত হয় সংগঠনগুলোর সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শিল্পকলা একাডেমী চত্বর থেকে পদযাত্রা সহকারে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে শহরের পুরাতন মাথাভাঙ্গা ব্রিজের ওপর গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

আলোচনা সভা ও গণসঙ্গীতের মাধ্যমে ‘মাথাভাঙ্গা নদীর দখল-দূষণ রোধ, সকল বাঁধ অপসারণ এবং অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণের দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’র সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি কোরবানি আলী মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ, রিসো’র নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার প্রতিনিধি সাফফাতুল ইসলাম, সাহিত্য সংগঠন চর্চায়নের পরিচালক রিগান এস্কেন্দার প্রমুখ।

মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি বলেন, ‘মানুষের অসচেতনতার কারণে মরা পশুপাখি মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে বাড়ছে নদী দূষণ। জেলা শহরের বেশ কয়েকটি ড্রেনের মাধ্যমে নোংরা পানি নদীতে দেদারছে নামছে। এতে নদীর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ছে। নদীর তীরে অবৈধভাবে পানবরজসহ বিভিন্ন প্রকার চাষাবাদ করা হচ্ছে। মাটি খননের কারণে তা ধুয়ে নদীতে নেমে নাব্যতা নষ্ট করছে। অবাক হলেও সত্য যে, নদীর বুক থেকে বালু উত্তোলন করে উপকারের বদলে ক্ষতিই ডেকে আনা হচ্ছে। কিছু স্থানে রয়েছে কোমর। তীরে কারেন্ট জাল দিয়ে নদীর স্বাভাবিক স্রোতের প্রতিবন্ধকতায় শুধু সৃষ্টি করা হচ্ছে না, ক্ষতিকারক ওই জালের কারণে ছোট-বড় মাছের পোনা, রেনুও মারা পড়ছে। এসব থেকে পরিত্রাণে প্রশাসনের যেমন আশু পদক্ষেপ নিতে হবে, তেমন সর্বস্তরের সচেতনতা প্রয়োজন।’

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচলে এ অঞ্চলের জিব-বৈচিত্র রক্ষা পাবে। তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় ফিরে আসবে। এই নদী বাঁচলে জেলার সকল নদীকে বাঁচানো সম্ভব হবে। তাই, আমাদের মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাতে সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে মাথাভাঙ্গা নদীর গান পরিবেশন করে উদীচীর শিল্পী আদিল হোসেন, শেখ ফরিদ আহমেদ, মিলন অধিকারী, সাহাবুদ্দিন। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন শ্রীদাম রায় ও তন্ময় বসু। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ও রিসো’র কর্মীবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।