০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাসপোর্টে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ পুনর্বহালের দাবি

বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (ইসরায়েল বাদে) শব্দ দু’টি পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছে ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জায়নবাদী আগ্রাসন: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভার বক্তারা এই দাবি করেন।

আলোচনা সভায় ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদের বাংলাদেশি কো-অর্ডিনেটর এবং ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুহাইমিনুল হাসান রিযাদ বলেন, বাংলাদেশেও জায়নবাদী আগ্রাসন চলমান রয়েছে। আগ্রাসন বলতে আমার বাংলাদেশে জায়নবাদীদের পক্ষে কিছু ঘটনা প্রবাহকে বুঝি। ইসরায়েল কূটনৈতিক অপতৎপরতার বড় অস্ত্র হলো পেগাসাস স্পাইওয্যার, আর বাংলাদেশ ইজরায়েল থেকে (তৃতীয় পক্ষ ব্যবহার করে) মোবাইলে আড়িপাতার এই যন্ত্র কিনেছে।

এছড়াও নানা মাধ্যমে এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) বিভিন্ন প্রযুক্তি কিনেছে এবং সেগুলো ব্যবহার করতে ইজরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আবার দেশের পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দদুটি বাতিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের পাসপোর্টের মান বৃদ্ধির মিথ্যা অজুহাত দিলেও পরবর্তীতে দেখা যায় আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান আরও কমেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিনের মানচিত্রকে ইসরায়েলের মানচিত্র বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অতীতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব করেছিল ইসরায়েল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ১৯৭২ সালের প্রথম দিকেই স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। কিন্তু তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ তা প্রত্যাখ্যান করে চিঠি রিলিজ করেন।

এমন অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে আছে তা বের করা, কেন পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দ দুটি বাতিল করা হয়েছিল তার জবাব রাষ্ট্র থেকে আদায় করা, পাসপোর্টে শব্দদুটি পুনর্বহাল করতে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এসময় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব প্রফেসর ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মঞ্জু, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্যান্যরা।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

বেপরোয়া গতির দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ তরুণের

পাসপোর্টে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ পুনর্বহালের দাবি

প্রকাশের সময় : ০২:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (ইসরায়েল বাদে) শব্দ দু’টি পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছে ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জায়নবাদী আগ্রাসন: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভার বক্তারা এই দাবি করেন।

আলোচনা সভায় ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদের বাংলাদেশি কো-অর্ডিনেটর এবং ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুহাইমিনুল হাসান রিযাদ বলেন, বাংলাদেশেও জায়নবাদী আগ্রাসন চলমান রয়েছে। আগ্রাসন বলতে আমার বাংলাদেশে জায়নবাদীদের পক্ষে কিছু ঘটনা প্রবাহকে বুঝি। ইসরায়েল কূটনৈতিক অপতৎপরতার বড় অস্ত্র হলো পেগাসাস স্পাইওয্যার, আর বাংলাদেশ ইজরায়েল থেকে (তৃতীয় পক্ষ ব্যবহার করে) মোবাইলে আড়িপাতার এই যন্ত্র কিনেছে।

এছড়াও নানা মাধ্যমে এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) বিভিন্ন প্রযুক্তি কিনেছে এবং সেগুলো ব্যবহার করতে ইজরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আবার দেশের পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দদুটি বাতিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের পাসপোর্টের মান বৃদ্ধির মিথ্যা অজুহাত দিলেও পরবর্তীতে দেখা যায় আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান আরও কমেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে ফিলিস্তিনের মানচিত্রকে ইসরায়েলের মানচিত্র বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অতীতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব করেছিল ইসরায়েল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ১৯৭২ সালের প্রথম দিকেই স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল। কিন্তু তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ তা প্রত্যাখ্যান করে চিঠি রিলিজ করেন।

এমন অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে আছে তা বের করা, কেন পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দ দুটি বাতিল করা হয়েছিল তার জবাব রাষ্ট্র থেকে আদায় করা, পাসপোর্টে শব্দদুটি পুনর্বহাল করতে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এসময় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব প্রফেসর ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মঞ্জু, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্যান্যরা।

এএইচ