কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ট্রেনের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, আহত দুজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। তারা পৌর এলাকার সবুজপাড়ার মৃত. নূর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রহিম (৬০) ও তাঁর ছেলে শফিউল্লাহ (৪০)।
ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা ট্রেনটি স্টেশনে আটকে বিক্ষোভ করলে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কোর্ট রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চুয়াডাঙ্গায় ফেরার উদ্দেশ্যে অসুস্থ মাকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুর রহিম ও তাঁর ছেলে শফিউল্লাহ ট্রেনে উঠতে গেলে ট্রেনের এক স্টাফ তাদের বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা-ছেলের ওপর হামলা চালান। হামলায় তাঁদের হাতে আঘাত লাগে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। অভিযুক্ত
এদিকে, আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ট্রেনকর্মীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়।
আহত শফিউল্লাহ জানান, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। আমি আমার অসুস্থ মা ও বাবাকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে গেলে একজন স্টাফ বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি আমার মাকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই স্টাফ আমাকে ও আমার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন। আমরা ঠেকাতে গেলে হাতে আঘাত পাই। অভিযুক্ত স্টাফের বাড়িও চুয়াডাঙ্গায় বলে জেনেছি।
ঘটনার পর সহযাত্রী ও স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, আহত দুজনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের দুজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সবুজপাড়ায়। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রেনের লোকোমাস্টার, ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ও অন্যান্য স্টাফ সেখান থেকে সরে যান। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশনের ইনচার্জ ইতি আরা খাতুন বলেন, আমি অফিসে ছিলাম। বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনে এসে জানতে পারি, ট্রেনের এক স্টাফের হামলায় দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। পরে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর যাত্রী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার এবং মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। পরে পুলিশ পাহারায় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন ত্যাগ করে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রেনের বগির দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী এ হামলা চালিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















