চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে দৈনিক সকালের খোঁজখবর পত্রিকার সাংবাদিক রানা আফান্দিকে মারধর ও তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বেলগাছি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
রানা আফান্দির অভিযোগ, এলাকায় মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করছিলেন তিনি। এসব সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে মুঠোফোনে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে বেলগাছি বাজারে একা পেয়ে কয়েকজন তাঁর পথ আটকে মারধর করেন এবং মুঠোফোনটি কেড়ে নেন।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বেলগাছি বাজারে গেলে রাজুর নেতৃত্বে কালাম নামের এক ব্যক্তির ভাই ওল্টু, পোয়ামারী গ্রামের নাজমুলসহ কয়েকজন সাংবাদিক রানা আফান্দির পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে মুঠোফোনটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন তিনি। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাঁর প্রকাশিত সংবাদগুলোর পর মাদকসংক্রান্ত মামলায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত অভিযোগ তোলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, মূল ঘটনা থেকে দৃষ্টি সরাতেই এ ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি বা হামলার মুখে পড়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক রানা আফান্দি আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক রানা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 



















